৬ মাসের টার্গেট, ২ বছরের ‘রোডম্যাপ’! নবান্নে আজ আধিকারিকদের ‘হোম টাস্ক’ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী

শপথগ্রহণের পর থেকেই ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করেছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সরকারি চাকরিতে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানোর মতো বড় সিদ্ধান্তের পর, আজ বুধবার নবান্নে বসছে এক হাই-ভোল্টেজ রিভিউ মিটিং। নবান্ন সভাঘরে দুপুর ২টোর এই বৈঠকে রাজ্যের ৪১টি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর ‘হোম টাস্ক’:
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আজকের বৈঠকটি কেবল নামমাত্র পর্যালোচনা নয়, বরং আগামী দুই বছরের জন্য রাজ্যের উন্নয়নের গতিপথ বা ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ। আগামী ৬ মাসে কোন দপ্তর কী কাজ করবে এবং বিগত সময়ে বাজেটের টাকা কীভাবে খরচ হয়েছে—সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট নিয়ে আসতে বলা হয়েছে প্রধান সচিবদের। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি দপ্তর থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন করে শীর্ষ আধিকারিককে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
নজরে ৪১টি দপ্তর:
প্রতিটি দপ্তরের বর্তমান প্রকল্পের অগ্রগতি এবং কাজ করতে গিয়ে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তা সরাসরি শুনবেন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানো এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক কাঠামোতে বড়সড় সংস্কার আনতেই এই ‘জরুরি তলব’।
কড়া শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা:
কেবল দপ্তরের কাজ নয়, সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলার বিষয়েও কড়া বার্তা দিয়েছে নতুন সরকার। সম্প্রতি অর্থ দপ্তরের ২০০০ সালের একটি নির্দেশিকাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানানো হয়েছে যে, সকাল ১০:১৫-র মধ্যে অফিসে প্রবেশ এবং বিকেল ৫:১৫-র আগে অফিস ত্যাগ করা যাবে না। আজকের বৈঠক থেকে কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে মুখ্যমন্ত্রী আরও কোনো কড়া বার্তা দেন কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে নবান্নের অন্দরমহল।
অ্যাকশন মুডে নতুন মুখ্যমন্ত্রী:
দায়িত্ব নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে তাঁর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানো এবং সরকারি চাকরিতে ছাড় দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে তাঁর জনপ্রিয়তার পারদ চড়ছে। আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে রাজ্যের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে আরও কী কী নতুন ঘোষণা আসে, এখন সেটাই দেখার।