হেলমেট নেই তো রেহাইও নেই! রাজ্যে সরকার বদলাতেই বাইক চালকদের জন্য জারি হলো ‘ডেডলাইন’

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কড়া হাতে ট্র্যাফিক শাসনের ময়দানে নামল রাজ্য পুলিশ। বারবার অভিযোগ উঠছিল, নিয়মের তোয়াক্কা না করেই হেলমেট ছাড়া রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বাইক চালকদের একাংশ। এবার সেই বিশৃঙ্খলা রুখতে এবং পথ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নতুন বিজেপি সরকার। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে রাজ্য পুলিশের তরফে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
অভিযান চলবে দিন-রাত
কলকাতা শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে হেলমেট ছাড়াই দ্রুত গতিতে বাইক চালানোর যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা বন্ধ করতে এবার বিশেষ অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ট্র্যাফিক বিভাগ এবং স্থানীয় থানাগুলিকে যৌথভাবে রাস্তায় নামতে হবে। কেবল বড় রাস্তা নয়, অলিতে-গলিতেও চলবে কড়া নজরদারি।
এডিজি ট্র্যাফিকের নজরদারি
এবার আর কেবল নির্দেশিকা জারি করেই ক্ষান্ত থাকছে না প্রশাসন। সরকারি আদেশ অনুযায়ী, এডিজি (ট্র্যাফিক) নিয়মিতভাবে এই অভিযানের রিপোর্ট সংগ্রহ করবেন এবং তা পর্যালোচনা করবেন। প্রতিটি জেলা ও কমিশনারেট এলাকায় হেলমেটহীন বাইক চালকদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তার পাই-পাই হিসাব দিতে হবে পুলিশকে।
কেন এই কঠোরতা?
ট্র্যাফিক পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, একটি হেলমেট কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং দুর্ঘটনার সময় চালকের প্রাণ বাঁচানোর প্রধান রক্ষাকবচ। বারবার সচেতনতামূলক প্রচার চালানো সত্ত্বেও দেখা গিয়েছে, একদল চালক সচেতনভাবে আইনকে ফাঁকি দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং প্রাণহানি রুখতেই এবার শূন্য সহনশীলতা বা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে নবান্ন।
নতুন সরকারের বিশেষ বার্তা
ক্ষমতায় আসার পরই ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ জোর দিচ্ছে বর্তমান সরকার। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিয়মনিষ্ঠার প্রতিফলন ঘটাতেই পুলিশের এই সক্রিয়তা। বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরা এখন আর কেবল উপদেশ নয়, বরং বাধ্যতামূলক এবং তা অমান্য করলে যে কড়া আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে, সেই বার্তাই সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের প্রতিটি কোণায়।
এখন দেখার, পুলিশের এই চিরুনি তল্লাশি ও কড়াকড়ির ফলে রাজ্যের রাজপথগুলো কতটা নিরাপদ হয়।