কে এই রাজ সিং? চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডে পুলিশের জালে ‘বিহার গ্যাং’, নেপথ্যে কি বড় মাথা?

গত ৬ মে মধ্যমগ্রামের সেই রক্তক্ষয়ী রাত আজও ভোলেনি রাজ্যবাসী। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে খুনের ঘটনায় এবার বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে কুখ্যাত শার্প শ্যুটার রাজ সিং ওরফে চন্দনকে। একই সঙ্গে বিহারের বক্সার থেকেও আটক করা হয়েছে আরও দুই সন্দেহভাজনকে।
একটি ‘ডিজিটাল ভুল’ এবং পুলিশের বাজিমাত তদন্তকারীদের দাবি, চন্দ্রনাথ রথকে খুনের পর অপরাধীরা একটি রুপোলি রঙের গাড়িতে চড়ে চম্পট দিয়েছিল। অত্যন্ত পেশাদার এই খুনিরা পুলিশের নজর এড়াতে গাড়িতে ‘ক্লোন নম্বর প্লেট’ ব্যবহার করেছিল। এমনকি গাড়ির চেসিস নম্বরও ঘষে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পালানোর পথে বালি টোলপ্লাজায় টোলের টাকা মেটাতে গিয়েই কালঘাম ছোটে আততায়ীদের। সেখানেই UPI-এর মাধ্যমে পেমেন্ট করে তারা। ওই একটি ডিজিটাল লেনদেনই পুলিশের হাতে তুলে দেয় তদন্তের তুরুপের তাস। মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে এবং টোলপ্লাজার হাই-ডেফিনিশন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের গতিবিধি নিশ্চিত করে পুলিশ।
কে এই রাজ সিং ওরফে চন্দন? অযোধ্যা থেকে ধৃত রাজ সিংয়ের অপরাধের খতিয়ান বেশ দীর্ঘ। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২০ সালে এক ডিম ব্যবসায়ী খুনের মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্ত ছিলেন। বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলীয় অপরাধীচক্রের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগাযোগ রয়েছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ধৃতের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ছবি পাওয়া গিয়েছে, যা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিহার ও পূর্বাঞ্চলের শ্যুটারদের ‘সুপারি’ তদন্তকারীদের অনুমান, চন্দ্রনাথকে সরাতে ভিনরাজ্যের পেশাদার শ্যুটারদের ভাড়া করা হয়েছিল। ঘটনার দিন চন্দ্রনাথের এসইউভির পথ আটকে যেভাবে মাস্ক পরা দুষ্কৃতীরা গুলিবৃষ্টি করেছিল, তা দেখে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘হিট’। এই ঘটনায় বিহারের বক্সার থেকে ময়ঙ্ক রাজ মিশ্র এবং বিকি মৌর্য নামে আরও দু’জনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের কলকাতায় এনে জেরা করা হচ্ছে।
বিভ্রান্ত করার ছক বনাম প্রযুক্তির জোর তদন্তে জানা গিয়েছে, অপরাধীরা শিলিগুড়ির একটি গাড়ির নম্বর অনলাইন পোর্টাল থেকে সংগ্রহ করে সেটির নকল নম্বর প্লেট বানিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল পুলিশকে বিভ্রান্ত করা। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে ইউপিআই পেমেন্টই কাল হলো খুনিদের জন্য।
এই খুনের নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড কে? কোনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র না কি পুরনো শত্রুতা— তা জানতে এখন ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে মরিয়া কলকাতা ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ দল।