“শুধু হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলানোর দরকার নেই”-প্রথম বৈঠকেই সচিবদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিলেন শুভেন্দু

৪ মে বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের পর সোমবার ছিল সবথেকে ঘটনাবহুল দিন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার নবান্নে পা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর প্রথম দিনই নিজের প্রশাসনিক মেজাজ এবং কর্মপদ্ধতি স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। ক্যাবিনেট বৈঠক থেকে শুরু করে সচিবদের সঙ্গে আলোচনা— প্রতিটি পদক্ষেপেই ছিল পরিবর্তনের স্পষ্ট ছাপ।
সচিবদের পূর্ণ স্বাধীনতা: ‘মোসাহেবি’ বন্ধের কড়া বার্তা নবান্ন সভাঘরে মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা এবং স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ-সহ সমস্ত দফতরের সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, আমলাতন্ত্রের ওপর থেকে রাজনৈতিক চাপ সরিয়ে তাঁদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিটি কথায় শুধু হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলানোর প্রয়োজন নেই। যা করা দরকার এবং যা আইনসঙ্গত, সেটুকুই করুন।” সুশাসন ফেরাতে সচিবদের এই ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
প্রথম ক্যাবিনেটের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তসমূহ: মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর ৫ মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর সরকার কোনও নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং বি আর অম্বেদকরের আদর্শে ‘জনগণের সরকার’ হিসেবে কাজ করবে। এদিনের বৈঠকের প্রধান ১০টি সিদ্ধান্ত হলো:
১. চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর: ২০১৫ সালের পর দীর্ঘসময় নিয়োগ না হওয়ায় সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানো হলো। ২. শহিদ পরিবারের দায়িত্ব: বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠায় যাঁদের অবদান রয়েছে, সেই ৩২১ জন নিহত কর্মীর পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব নিল রাজ্য। ৩. সীমান্ত সুরক্ষা: রাজ্যের জনবিন্যাস রক্ষায় ১১ মে থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা হবে। ৪. কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সূচনা: রাজ্যে অবিলম্বে চালু হচ্ছে ‘আয়ুষ্মান ভারত’, ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ এবং ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’। ৫. আইনি সংস্কার: অসাংবিধানিকভাবে চলা আইপিসি (IPC) বাতিল করে আজ থেকেই রাজ্যে কার্যকর হলো ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’। ৬. সামাজিক প্রকল্প: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ পুরনো সমস্ত সামাজিক প্রকল্প চালু থাকবে। তবে মৃত ব্যক্তি বা অ-ভারতীয়রা এই সুবিধা পাবেন না। ৭. আমলাদের প্রশিক্ষণ: দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের IAS ও IPS অফিসাররা এখন থেকে কেন্দ্রের যে কোনও ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে পারবেন। ৮. স্বচ্ছতা: সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে সমস্ত পোর্টাল আপডেট এবং ডিবিটি-র (DBT) ওপর জোর দেওয়া হবে।
মমতার স্টাইলকে নিশানা এদিন সাংবাদিক বৈঠকের ফাঁকেই পূর্ববর্তী সরকারের পরিচালনার ধরণকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি শুভেন্দু। পুরনো খামতিগুলো শুধরে নিয়ে শুরু থেকেই জিরো টলারেন্স নীতিতে হাঁটতে চাইছে তাঁর ক্যাবিনেট। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, “ভোটের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে এবং সরকার চলবে সম্পূর্ণ সংবিধান মেনে।”
সব মিলিয়ে, প্রথম দিনেই নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ বুঝিয়ে দিল যে, আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল বদল আসতে চলেছে।