মধ্যরাতে বাড়ির দরজা ভেঙে তাণ্ডব! শ্লীলতাহানির পর গৃহবধূদের চুল কেটে নিল দুষ্কৃতীরা, রক্তগঙ্গা সামসেরগঞ্জে

মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জে মধ্যরাতে চলল এক ভয়ঙ্কর পাশবিক তাণ্ডব। এক মহিলাকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ জানানোয় ওই পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা চালাল একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, বাড়ির পুরুষদের এলোপাথাড়ি কোপানোর পাশাপাশি মহিলাদের শ্লীলতাহানি করে তাঁদের মাথার চুল কেটে নেওয়া হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে সামসেরগঞ্জ থানার ঘনেশ্যামপুর গ্রামে এই শিউরে ওঠা ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত কী?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ওই পরিবারের এক মহিলাকে দীর্ঘ দিন ধরে উত্ত্যক্ত করছিল প্রতিবেশী এক যুবক। এই নিয়ে মাসখানেক আগে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এবং থানায় অভিযোগ দায়ের পর্যন্ত হয়েছিল। সম্প্রতি পুলিশি নোটিস অভিযুক্তের বাড়িতে পৌঁছলে ক্ষোভের আগুন আরও তীব্র হয়। রবিবার বিকেলে আক্রান্ত পরিবারটি ফের থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

মধ্যরাতে রক্তক্ষয়ী হামলা
অভিযোগ, রবিবার রাত ১২টা নাগাদ যখন পরিবারের সদস্যরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখনই অভিযুক্ত যুবক তার দলবল নিয়ে হাঁসুয়া ও অন্যান্য ধারাল অস্ত্র নিয়ে ওই বাড়িতে চড়াও হয়। দরজা ভেঙে বাড়ির ভেতরে ঢুকে তারা তাণ্ডব শুরু করে। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের কোপানো হয়। ধারাল অস্ত্রের আঘাতে তিন মহিলা-সহ মোট ছয় সদস্য গুরুতর জখম হয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মহিলাদের ওপর চরম শারীরিক লাঞ্ছনা চালানোর পর তাঁদের মাথার চুলও কেটে দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে লড়ছেন আক্রান্তরা
আক্রান্তদের চিৎকারে গ্রামবাসীরা ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁদের প্রথমে অনুপনগর হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশি তৎপরতা
ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই রাতেই গ্রামে পৌঁছায় সামসেরগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। গ্রাম জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা থাকায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বর্বরোচিত ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা। তবে একজন মহিলার ওপর এমন নৃশংস অত্যাচারের ঘটনায় ফের একবার নারী সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।