একুশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সামনে ইতিহাস গড়লেন শুভেন্দু! ব্রিগেডে শপথ নিলেন অগ্নিমিত্রা-নিশীথরাও

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে সূচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। শুক্রবার গঙ্গার পাড়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে লক্ষ লক্ষ মানুষের সাক্ষী রেখে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপাল আর এন রবি তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।

এদিন আক্ষরিক অর্থেই ‘ভিভিআইপি’দের মেলা বসেছিল তিলোত্তমায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একই হুডখোলা গাড়িতে চেপে ব্রিগেডের জনসমুদ্রে প্রবেশ করেন শুভেন্দু। পরনে ছিল ট্র্যাডিশনাল গেরুয়া পাঞ্জাবি। উপস্থিত ছিলেন ২১টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, একাধিক উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

মন্ত্রিসভার ‘মাস্টারস্ট্রোক’:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে এদিন আরও পাঁচজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। মন্ত্রিসভা গঠনে বিজেপি যে সামাজিক ভারসাম্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে, তা শপথগ্রহণের তালিকা দেখলেই স্পষ্ট।

মহিলা মুখ: আসানসোল দক্ষিণ থেকে জয়ী অগ্নিমিত্রা পাল মন্ত্রিসভার অন্যতম মুখ।

উত্তরবঙ্গ ও যুব সমাজ: কোচবিহারের দাপুটে নেতা নিশীথ প্রামাণিক স্থান পেয়েছেন উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে।

মতুয়া ও আদিবাসী কার্ড: মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি অশোক কীর্তনিয়া এবং আদিবাসী সমাজের মুখ হিসেবে রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু শপথ নিলেন। এছাড়াও পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

এক নজরে শুভেন্দুর উত্থান:
গত শুক্রবার নিউ টাউনের বৈঠকে অমিত শাহের উপস্থিতিতেই পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে শুভেন্দুর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছিল। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুই কেন্দ্রেই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে শুভেন্দু আগেই নিজের রাজনৈতিক ওজন প্রমাণ করেছিলেন। আজ শপথের মধ্য দিয়ে সেই জয়ের মুকুট মাথায় পরলেন তিনি।

তবে শপথগ্রহণ সম্পন্ন হলেও নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা করা হয়নি। রাজভবন সূত্রে খবর, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজভবন থেকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। আপাতত বাংলার শাসনভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে এক নতুন ‘ইনিংস’ শুরু করলেন শুভেন্দু অধিকারী।