শুরু হলো শুভেন্দু-যুগ! রাজভবনে পৌঁছে সরকার গড়ার দাবি পেশ, মমতার বিদায়ের পর কার কার নাম থাকছে ক্যাবিনেটে?

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বহু প্রতীক্ষিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই রাজভবনের পথে পা বাড়ালেন বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ (৮ মে) দুপুরে তিনি লোকভবনে পৌঁছে রাজ্যপাল লা গণেশনের কাছে সরকার গড়ার আনুষ্ঠানিক দাবি পেশ করেন।

পদ্ম শিবিরের আত্মবিশ্বাস এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর থেকেই বঙ্গ-বিজেপির অন্দরে খুশির হাওয়া। আজ দলের বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরেই কোনো সময় নষ্ট না করে লোকভবনে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি রাজ্যপালের হাতে তাঁদের সমর্থিত বিধায়কদের তালিকা তুলে দেন এবং বাংলায় প্রথম ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার গঠনের দাবি জানান।

দাবি পেশের পর কী বললেন শুভেন্দু? লোকভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী মেজাজে দেখা যায় শুভেন্দুকে। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ এক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ভোট দিয়েছিলেন, সেই পরিবর্তন আজ সফল। আমরা সরকার গড়ার দাবি জানিয়েছি। খুব শীঘ্রই শপথ গ্রহণের দিনক্ষণ জানানো হবে।” তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শপথ নেওয়ার বিষয়ে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপরই পুরো বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছেন।

নবান্নে পালাবদল রাজ্যপাল শুভেন্দু অধিকারীর এই দাবিকে খতিয়ে দেখছেন এবং সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী কাল বা পরশুর মধ্যেই রাজভবনের লনে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ নিতে পারে বিজেপির নতুন মন্ত্রিসভা। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর তৃণমূলের হাত থেকে বাংলার শাসনভার পদ্ম শিবিরের হাতে যাওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

উত্তেজনায় ফুটছে কলকাতা শুভেন্দু অধিকারীর লোকভবনে পৌঁছানোর খবর ছড়াতেই শহরজুড়ে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উন্মাদনা শুরু হয়েছে। দিকে দিকে জয়ধ্বনি আর গেরুয়া আবিরে রাঙা হচ্ছে তিলোত্তমা। অন্যদিকে, নবান্নের অলিন্দে এখন শুরু হয়েছে নতুন সরকারকে বরণ করে নেওয়ার প্রশাসনিক প্রস্তুতি।

বাংলার মানুষ এখন সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায়, যখন কয়েক দশকের বাম-তৃণমূল জমানার পর রাজ্যে পা রাখবে প্রথম বিজেপি সরকার। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য প্রতিটি আপডেটে আমরা নজর রাখছি প্রতি মুহূর্তে।