রুটিন মেনে পড়াশোনা না করেই বাজিমাত! মাধ্যমিকে রাজ্যে দ্বিতীয় হয়ে কী ‘সিক্রেট’ ফাঁস করল বীরভূমের ভূমিপুত্র?

ভোটের উত্তাপের মাঝেই এবার মাধ্যমিকের জয়ধ্বনি। শুক্রবার সকালে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে। আর সেই মেধাতালিকায় বীরভূম জেলাকে গর্বিত করে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে প্রিয়তোষ মুখোপাধ্যায়। বীরভূমের সরোজিনী দেবী শিশুমন্দিরের এই কৃতি ছাত্রের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৬।
টেনশন কাটাতে পড়তে বসতে চেয়েছিল প্রিয়তোষ!
ফল প্রকাশের দিন সকাল থেকেই প্রচণ্ড উদ্বেগে ছিল প্রিয়তোষ। উদ্বেগ কমাতে সে তার ইংরেজির শিক্ষককে ফোন করে বাড়িতে চলে আসতে বলে, যাতে পড়াশোনার মাধ্যমে মন ঘোরানো যায়। কিন্তু ভাগ্যের লিখন ছিল অন্যরকম। শিক্ষকের স্ত্রী ফোন করে যখন তাকে রাজ্যে দ্বিতীয় হওয়ার খবর জানান, তখন নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারেনি প্রিয়তোষ। তার কথায়, “এটা আমার কাছে একটা বড় সারপ্রাইজ। বাবা, মা এবং শিক্ষকদের আশীর্বাদেই আজ এই সাফল্য।”
রুটিন নয়, ‘কোয়ালিটি টাইম’ই সাফল্যের চাবিকাঠি
কীভাবে পড়াশোনা করত রাজ্যের এই কৃতি? প্রিয়তোষ জানায়, সে তথাকথিত ধরাবাঁধা রুটিন মেনে চলত না। তবে যখনই পড়তে বসত, দিনে ৪-৫ ঘণ্টা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে বা ‘কোয়ালিটি স্টাডি’ করত। অবসর সময়ে গান শুনতে ভালোবাসে সে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবার সুযোগ্য সন্তান প্রিয়তোষের লক্ষ্য এখন অনেক দূর। ভবিষ্যতে আইআইটি (IIT) থেকে পড়াশোনা করে একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে সে।
এক নজরে মাধ্যমিকের রেজাল্ট কার্ড:
পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, এবারের মাধ্যমিকে সামগ্রিক পাশের হার ৮৬.৮৩ শতাংশ।
প্রথম: অভিরূপ ভদ্র (উত্তর দিনাজপুর), প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৮।
দ্বিতীয়: প্রিয়তোষ মুখোপাধ্যায় (বীরভূম), প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৬।
তৃতীয়: সৌর জানা (নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন), অঙ্কন জানা (পূর্ব মেদিনীপুর) ও মৈনাক মণ্ডল (বাঁকুড়া), প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৫।
এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিল ৯ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৪০ জন পরীক্ষার্থী। উল্লেখ্য যে, প্রতিবারের মতো এবারও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি ছিল। মেধাতালিকার প্রথম দশে স্থান পেয়েছেন মোট ১৩১ জন পরীক্ষার্থী, যারা ১৯টি জেলার ৮৩টি ভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রী।
রাজ্যে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের ঠিক আগের দিন এই ফলাফল ঘোষণা জেলায় জেলায় খুশির জোয়ার নিয়ে এসেছে। নিজের লক্ষ্যে অবিচল প্রিয়তোষের এই সাফল্য এখন বীরভূমের প্রতিটি ঘরে অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।