খেলতে খেলতে নিমেষেই শেষ প্রাণ! উত্তরপ্রদেশে প্রতিবেশীর বাড়ির ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু ৬ বছরের শিশুর

উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ জেলার মাজহোলা থানা এলাকায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আম্বেদকর নগর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হলো ৬ বছর বয়সী এক শিশুকন্যার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খেলার মাঝেই বিষাদ
মৃত শিশুটির নাম রাধা। সে পেশায় শ্রমিক রোহিতের মেয়ে ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টা নাগাদ গোপালপুর রোডের বাসিন্দা অঙ্কিত নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে কাজ চলার সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাধা এবং আরও কয়েকজন শিশু ওই নির্মাণাধীন বাড়ির কাছেই খেলছিল। আচমকাই বাড়ির একটি জরাজীর্ণ দেওয়াল এবং দরজার ওপরের চৌকাঠ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। বাকি শিশুরা কোনোমতে সরে যেতে সক্ষম হলেও, রাধা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়ে।
কান্নাভেজা পরিবারের করুণ আর্তি
শিশুদের চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেন। রাধাকে উদ্ধার করে বের করে আনা হলেও ততক্ষণে তার স্পন্দন থেমে গিয়েছিল। জানা গেছে, রোহিত মূলত চন্দৌসীর পাত্রাউয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং এখানে শ্রমিকের কাজ করতেন। রাধা ছিল তার মৃত ভাই জুগনুর মেয়ে, যাকে তিনি নিজের সন্তানের মতোই স্নেহ ও আদরে বড় করে তুলছিলেন।
গাফিলতির অভিযোগ ও আইনি ব্যবস্থা
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য নির্মাণকাজে যুক্ত ব্যক্তিদের চরম অবহেলাকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোনো রকম ব্যারিকেড বা নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই কাজ চালানো হচ্ছিল। মোরাদাবাদ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (MDA) এবং পুর নিগমের নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম (যেমন নিরাপত্তা জাল বা টিনের ছাউনি) ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
খবর পেয়ে মাজহোলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগ এবং কারিগরি তদন্তের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়ম লঙ্ঘন করে নির্মাণকাজ চালানোর বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।