সাবধান! আপনার আদরের সন্তানের হাতে স্মার্টফোন নেই তো? অটিজমের ঝুঁকি নিয়ে AIIMS-এর বড় সতর্কতা

বাবা-মায়েরা একটু শান্তিতে কাজ করবেন বলে বা শিশুকে খাওয়ানোর নাম করে হাতে তুলে দিচ্ছেন স্মার্টফোন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কার্টুন বা ভিডিওতে মগ্ন থাকছে খুদে। আপনি হয়তো ভাবছেন শিশু শান্ত আছে, কিন্তু অজান্তেই তার বড়সড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে না তো? দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা ঘুম উড়িয়েছে বিশেষজ্ঞদের। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, শৈশবে অত্যধিক ‘স্ক্রিন টাইম’ শিশুদের মধ্যে অটিজমের মতো জটিল সমস্যার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

স্ক্রিন কেড়ে নিচ্ছে শৈশব: কী বলছেন চিকিৎসকরা?
AIIMS-এর গবেষণা অনুযায়ী, শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য মানুষের স্পর্শ, কথা বলা এবং পরিবারের সঙ্গে গুণগত সময় কাটানো অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমানে পর্দার মোহ শিশুদের এই স্বাভাবিক জগত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, স্ক্রিনের সামনে অতিবাহিত সময়ের কারণে শিশুদের মধ্যে অটিজম-সদৃশ (Autism-like symptoms) আচরণ দেখা দিচ্ছে। যদিও অটিজমের জন্য জিনগত বা পরিবেশগত কারণ দায়ী থাকে, তবে মোবাইল বা টিভির নেশা এই সমস্যাকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

প্রথম ১০০০ দিন কেন ‘ভাইটাল’?
একটি শিশুর জন্মের পর প্রথম ১০০০ দিন বা প্রায় তিন বছর পর্যন্ত মস্তিষ্কের গঠন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে হয়। এই সময়ে মস্তিষ্ক স্পঞ্জের মতো চারপাশের পরিবেশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। এই বয়সে যদি শিশু মানুষের পরিবর্তে যন্ত্রের সঙ্গে বেশি সময় কাটায়, তবে তার সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং যোগাযোগের ক্ষমতা তৈরি হতে পারে না। AIIMS-এর পরামর্শ, ১৮ মাস বা দেড় বছর বয়সের আগে শিশুদের স্ক্রিন থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা উচিত।

Shutterstock
Explore

অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার কী?
এটি একটি স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যা, যা মূলত শিশুর কথা বলা এবং মেলামেশার দক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এখানে ‘স্পেকট্রাম’ শব্দটি ব্যবহারের অর্থ হলো, প্রতিটি শিশুর ক্ষেত্রে লক্ষণ ও তার তীব্রতা আলাদা হতে পারে। আক্রান্ত শিশুরা হয়তো সাধারণ খেলনা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে খেলে না, বরং খেলনার কোনো নির্দিষ্ট অংশের (যেমন গাড়ির চাকা) প্রতি তীব্রভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে।

অভিভাবকরা কোন লক্ষণগুলোতে নজর দেবেন?
তিন বছর বয়সের পর শিশুর মস্তিষ্কের গঠন প্রায় স্থায়ী রূপ নেয়, তাই তার আগেই কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। নিচের লক্ষণগুলি দেখলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:

চোখের দিকে তাকিয়ে (Eye contact) কথা না বলা।

নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেওয়া।

কথা বলতে দেরি হওয়া বা কথা বলতে অনীহা।

ইতিমধ্যেই শিখে যাওয়া কোনো কথা বা কাজ হঠাৎ ভুলে যাওয়া।

অঙ্গভঙ্গি বা ইশারায় মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজ বা মানুষের সঙ্গে শিশুর সংযোগ যত কমবে, তার আচরণের পরিবর্তন তত জটিল হবে। তাই সময় থাকতে আপনার সন্তানকে ডিজিটাল জগত থেকে বের করে এনে বাস্তবের মাটির পৃথিবীতে খেলার সুযোগ করে দিন। মনে রাখবেন, আজকের সামান্য অসতর্কতা আপনার শিশুর ভবিষ্যতের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।