বাংলায় এবার ‘গেরুয়া’ বসন্ত! মঙ্গলবারই কলকাতায় পা রাখছেন রাজনাথ-অমিত শাহ, কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?

শীত আসার আগেই ঝরে গেল জোড়াফুল। একুশের নির্বাচনে যে লড়াই অধরা ছিল, ২০২৬-এ তা বাস্তবে করে দেখাল ভারতীয় জনতা পার্টি। বাংলার মসনদ থেকে তৃণমূলকে সরিয়ে এবার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। সোমবারের ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এখন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সরকার গঠন এবং শপথ গ্রহণের অপেক্ষা।
কলকাতায় হাইভোল্টেজ বৈঠক: আসছেন রাজনাথ ও শাহ
বাংলার নতুন সরকার গঠন এবং মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করতে আজ মঙ্গলবারই দিল্লি থেকে কলকাতায় উড়ে আসছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। দলীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকালে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে জরুরি ক্যাবিনেট বৈঠক সেরে তিনি কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবেন। শুধু রাজনাথ নন, আজকের এই মেগা বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। সোমবারই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলার মানুষকে ‘কোটি কোটি প্রণাম’ জানিয়ে জয়ের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে কে?
বিজেপির অন্দরে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন— কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? বিজেপি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে কোনো ‘ভূমিপুত্র’ই সামলাবেন রাজ্যের হাল। সেই দৌড়ে আপাতত সবথেকে শক্তিশালী নাম শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারী: নন্দীগ্রামের পাশাপাশি দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে তিনি এখন ‘জায়ান্ট কিলার’। ফলে তাঁর পাল্লা সবথেকে ভারী।
শমীক ভট্টাচার্য: দৌড়ে রয়েছেন বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তবে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায়, তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হলে ছয় মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনে জিতে আসতে হবে।
অন্যান্য নাম: এছাড়াও আলোচনায় রয়েছে দিলীপ ঘোষ এবং স্বপন দাশগুপ্তের নাম।
আজই কি রাজভবন অভিযান?
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার কলকাতায় পৌঁছে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজনাথ সিং রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানাতে পারেন। নতুন মন্ত্রিসভায় কারা ঠাঁই পাবেন এবং শপথ গ্রহণ কবে হবে, তা নিয়ে আজ বিকেলের মধ্যেই বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ছাব্বিশের এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ে বিজেপি যেভাবে তৃণমূলকে একচুলও জমি ছাড়েনি, তাতে নতুন সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। নবান্নের অলিন্দে এখন শুধুই নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা।