গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় কর্মী কেন? সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল

গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের করা আবেদনে হস্তক্ষেপ করতে চাইল না দেশের শীর্ষ আদালত। রাজ্য সরকারি কর্মীদের ব্রাত্য রাখা হচ্ছে কেন—এই প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল শাসক দল। তবে শুক্রবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি বা সার্কুলার মেনেই ভোটগণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

শীর্ষ আদালতে কী হল?

এদিন সকালে বিচারপতি পি এস নরসিমা এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি অভিযোগ করেন, গণনাকেন্দ্রে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে না এবং রাজ্য সরকারের মনোনীত প্রতিনিধিদের অভাব রয়েছে। এর উত্তরে নির্বাচন কমিশন আদালতকে জানায়, ভারসাম্য বজায় রাখতে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাজ করা হচ্ছে। যেখানে কাউন্টিং সুপারভাইজার কেন্দ্রীয় সরকারের, সেখানে কাউন্টিং এজেন্ট রাজ্য সরকারের রাখা হচ্ছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

দুই বিচারপতির বেঞ্চ কমিশনের যুক্তিতেই সিলমোহর দেয়। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়:

  • পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা অমূলক: সরকারি কর্মীরা কেন্দ্রের হোক বা রাজ্যের, তাঁরা দায়িত্ব মেনেই কাজ করেন। তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব রয়েছে—এমনটা আগাম ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই।

  • কমিশনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ: গণনার কাজে নিযুক্ত সব কর্মীই ওই সময়ে নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকেন। তাই তাঁরা কোন স্তরের কর্মী, তা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ নেই।

  • সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা: গণনাকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা কমিশনের নেই।

ধাক্কা খেল ঘাসফুল ব্রিগেড

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি ছিল, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি কাউন্টিং টেবিলে অন্তত একজন করে রাজ্য সরকারি কর্মী থাকা জরুরি। কিন্তু শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, কমিশনের বর্তমান কাঠামোতে ভুল কিছু নেই। কমিশনের সার্কুলারে কেন্দ্র বা রাজ্য—উভয় পক্ষের কর্মীদের মধ্য থেকেই বাছাই করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে আপাতত কমিশনের দেওয়া নিয়ম মেনেই গণনার কাজ এগোবে, যা তৃণমূলের আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।