‘এটা কি তীর্থযাত্রীদের শাস্তি?’ হজযাত্রায় ১০,০০০ টাকা চার্জ বৃদ্ধি নিয়ে তোলপাড় দেশ, আসরে ওয়েইসি

পবিত্র হজ যাত্রার ঠিক প্রাক্কালে বড়সড় ধাক্কা খেলেন ভারতের হজযাত্রীরা। ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে বিমানের জ্বালানির (ATF) দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় এক ধাক্কায় হজের বিমানভাড়া ১০,০০০ টাকা বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র। সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে হজযাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের পাশাপাশি দানা বেঁধেছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
কেন বাড়ল ভাড়া? সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বব্যাপী এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা এটিএফ-এর দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গিয়েছে। সাধারণত একটি বিমান পরিচালনার খরচের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই ব্যয় হয় এই জ্বালানির পিছনে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতায় বিমান সংস্থাগুলি বড়সড় আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ায় এই ‘এককালীন বিমান ভাড়া সংশোধন’ জরুরি ছিল বলে জানানো হয়েছে।
হজ কমিটির নতুন নির্দেশিকা: হজ কমিটির সাম্প্রতিক সার্কুলারে বলা হয়েছে, যাত্রার স্থান নির্বিশেষে প্রত্যেক হজযাত্রীকে অতিরিক্ত ১০০ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১০,০০০ টাকা) বহন করতে হবে। আগামী ১৫ মে-র মধ্যে এই বর্ধিত অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল বিরোধীরা: ভাড়া বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তকে ‘অবিচার’ ও ‘শোষণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মিম (AIMIM) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়েইসি। টুইটারে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লেখেন, “মুম্বই থেকে যাত্রা করা তীর্থযাত্রীদের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই ৯০,৮৪৪ টাকা নেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ ভাড়ার দ্বিগুণ। হজ কমিটির মাধ্যমে যাওয়ায় কি তবে তীর্থযাত্রীদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে? হজে যাওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর টাকা জমিয়ে এই সফরে যান।”
অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ী প্রশ্ন তুলেছেন সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে। তাঁর দাবি, যখন পুরো ভাড়া আগেই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল, তখন শেষ মুহূর্তে কেন এই বাড়তি বোঝা চাপানো হলো?
আত্মপক্ষ সমর্থনে সরকার: বিতর্ক বাড়তে থাকায় মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি স্পষ্ট করেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় বিমান সংস্থাগুলো শুরুতে প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার অতিরিক্ত দাবি করেছিল। কিন্তু সরকার আলোচনার মাধ্যমে সেই দাবি কমিয়ে মাত্র ১০০ ডলারে নামিয়ে এনেছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কিছুটা কম হয়।
আকস্মিক এই আর্থিক বোঝা নিয়ে এখন চিন্তার ভাঁজ হাজার হাজার হজযাত্রীর কপালে। শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে সরকার কোনো ছাড় দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।