পার্সোনাল লোন না কি হোম লোন—কার দায় কার ওপর? ঋণ নেওয়ার আগে এই গোপন তথ্যটি জেনে নিন

বর্তমানে স্মার্টফোনের এক ক্লিকেই লোন পাওয়া সম্ভব। বাড়ি কেনা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত প্রয়োজন— ইএমআই (EMI) নির্ভর জীবনে ঋণ নেওয়া এখন অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটি বেশ অন্ধকার। অনেকের মনেই এই প্রশ্ন জাগে, যদি লোন শোধ হওয়ার আগেই ঋণগ্রহীতার আকস্মিক মৃত্যু হয়, তবে সেই দায় কার? সম্পত্তি কি ব্যাঙ্কের দখলে চলে যাবে, নাকি পরিবারকে পথে বসতে হবে? এই বিষয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গাইডলাইন ও আইনি নিয়মগুলো জেনে রাখা জীবনদায়ী ওষুধের মতোই জরুরি।

কো-অ্যাপ্লিকেন্ট ও গ্যারান্টরের বিপদ: যদি লোনের সময় কোনো সহ-আবেদনকারী বা কো-অ্যাপ্লিকেন্ট থাকেন, তবে প্রাথমিক ঋণগ্রহীতার অবর্তমানে ঋণের পুরো বোঝা তাঁর কাঁধেই চাপে। বিশেষ করে হোম লোনের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি বেশি দেখা যায়। একইভাবে, ঋণের গ্যারান্টর হিসেবে যিনি সই করেন, তিনি আইনত দায়বদ্ধ থাকেন সেই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য।

উত্তরাধিকারীদের দায় কতটুকু? অনেকের ধারণা, বাবা লোন নিয়ে থাকলে ছেলেকে তা শোধ করতেই হবে। কিন্তু ভারতের আইন বলছে অন্য কথা। উত্তরাধিকারীরা শুধুমাত্র মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য পর্যন্তই দায়বদ্ধ। যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সম্পত্তি না থাকে, তবে পরিবারকে নিজেদের পকেট থেকে বা নিজস্ব সম্পত্তি বিক্রি করে সেই ঋণ শোধ করতে ব্যাধ্য করা যাবে না।

সিকিওরড বনাম আনসিকিউর্ড লোন: ১. হোম বা কার লোন: এই লোনগুলো ‘সিকিওরড’ বা সুরক্ষিত। টাকা শোধ না হলে ব্যাঙ্ক সংশ্লিষ্ট বাড়ি বা গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে তুলতে পারে। ২. পার্সোনাল লোন বা ক্রেডিট কার্ড: এগুলি ‘আনসিকিউর্ড’। এক্ষেত্রে কোনো জামানত থাকে না। ঋণগ্রহীতার মৃত্যু হলে যদি সম্পত্তি থেকে টাকা উদ্ধার না হয়, তবে ব্যাঙ্ক সেই ঋণকে এনপিএ (NPA) বা অনাদায়ী হিসেবে ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।

রক্ষাকবচ যখন লোন ইন্স্যুরেন্স: বিপদের দিনে সবথেকে বড় বন্ধু হলো লোন ইন্স্যুরেন্স। বর্তমানে বহু ব্যাঙ্ক লোন দেওয়ার সময়ই ইন্স্যুরেন্স করিয়ে নেয়। এক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার মৃত্যু হলে বীমা সংস্থাই ব্যাঙ্কের বাকি পাওনা মিটিয়ে দেয়। ফলে শোকাতুর পরিবারের ওপর ঋণের বোঝা চাপে না। এছাড়া টার্ম ইন্স্যুরেন্স থাকলেও সেই টাকা দিয়ে উত্তরাধিকারীরা লোন সেটেল করতে পারেন।