“লুঠপাট করেই জেতে, ওসব কোনো ব্যাপারই না!” ফল প্রকাশের আগেই বড় কেলেঙ্কারির অভিযোগ অধীরের মুখে

রাজ্যে ভোটের লড়াই শেষ হতে না হতেই ইভিএম কারচুপি এবং অবাধ ভোটদান নিয়ে ফের সরব হলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এবার তাঁর নিশানায় সরাসরি এক হেভিওয়েট প্রার্থী, যাঁকে নাম না করে ‘খোকাবাবু’ বলে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। ইভিএম-এর টেপ বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অধীর চৌধুরী যে ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন, তাতে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর চৌধুরী সাফ জানান, রাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা এখন ‘সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বলে কিছু নেই। তাঁর দাবি, ওই সমস্ত এলাকায় পেশ পেশিবল এবং রিগিং-এর মাধ্যমেই ফলাফল নির্ধারিত হয়।

ঠিক কী বললেন অধীর চৌধুরী? ইভিএম-এর সুরক্ষা এবং টেপ বিতর্ক নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে অধীর বলেন, “ওগুলো তো সব টেরর (সন্ত্রাস) এলাকা। ওখানে খোকাবাবু ৭-৮ লক্ষ ভোটে জেতেন। এটা কোনো অবাক হওয়ার মতো বিষয়ই না, কারণ ওখানে মানুষের রায় নয়, বরং লুঠপাট করেই জেতা হয়।” তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরণের জয় কোনো রাজনৈতিক সাফল্য নয়, বরং ভোটযন্ত্রের কারচুপিরই নামান্তর।

কার দিকে আঙুল? অধীর চৌধুরী সরাসরি কারও নাম না নিলেও তাঁর ‘খোকাবাবু’ সম্বোধন কার প্রতি, তা বুঝতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অসুবিধা হচ্ছে না। তৃণমূলের এক প্রভাবশালী যুব নেতা তথা হেভিওয়েট প্রার্থীর গড় হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতেই এই ধরণের বিপুল ব্যবধানে জয়ের ইতিহাস রয়েছে। অধীরের এই মন্তব্য মূলত সেই জয়গুলোকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

ভোটের ফল ঘোষণার ঠিক কয়েক দিন আগে অধীর চৌধুরীর এই ‘লুঠপাট’ তত্ত্ব বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। একদিকে যখন শাসক দল জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত, তখন বিরোধী শিবিরের এই আক্রমণ কি কেবলই হারের অজুহাত নাকি এর পেছনে রয়েছে বড় কোনো সত্য? তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে। তবে আপাতত অধীরের এই ‘টেরর এলাকা’ মন্তব্য নিয়ে সরগরম গঙ্গার ওপাড় থেকে ওপাড়।