বিস্ফোরক বুথ ফেরত সমীক্ষা! ১৯২ আসন নিয়ে বাংলায় কি গেরুয়া শাসন? চাণক্যের সমীক্ষায় ওলটপালট সব হিসেব

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতে না হতেই বাংলার রাজনৈতিক আকাশে বড়সড় ঝড়ের ইঙ্গিত দিল প্রখ্যাত সমীক্ষক সংস্থা ‘টুডেজ চাণক্য’ (Today’s Chanakya)। তাদের এক্সিট পোল বা বুথ ফেরত সমীক্ষার পরিসংখ্যান যদি সত্যি হয়, তবে বাংলায় এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটতে চলেছে। চাণক্যের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে নবান্নের দখল নিতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি।
কী বলছে চাণক্যের পরিসংখ্যান? সমীক্ষা অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এককভাবে ম্যাজিক ফিগার অনায়াসেই পার করে যাচ্ছে বিজেপি। তাদের ঝুলিতে যেতে পারে ১৯২টি আসন (৫টি কম বা বেশি হতে পারে)। অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস গতবারের তুলনায় অনেকখানি পিছিয়ে মাত্র ১০০টি আসনের আশেপাশে থমকে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বাম-কংগ্রেস জোট বা অন্যান্যদের জন্য এই সমীক্ষায় বিশেষ কোনো আশার আলো দেখা যায়নি।
কেন এই ওলটপালট? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টুডেজ চাণক্যের এই পূর্বাভাস যদি মিলে যায়, তবে বুঝতে হবে বাংলায় এক বিশাল ‘আন্ডারকারেন্ট’ বা গোপন হাওয়া কাজ করেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ভোটব্যাঙ্কে ধস নামা এবং নারী ভোটারদের একাংশের মেরুকরণ এই ফলাফলের পেছনে বড় কারণ হতে পারে। এছাড়াও কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতির মতো ইস্যুগুলো শাসক শিবিরের প্রতিকূলে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিগত রেকর্ড বনাম বর্তমান পরিস্থিতি: উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিক জাতীয় নির্বাচনে টুডেজ চাণক্যের পূর্বাভাস নির্ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তাদের এই ১৯২ আসনের দাবি স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি শিবিরের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব এই সমীক্ষাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, আসল ফলাফল ৪ মে প্রকাশিত হবে এবং সাধারণ মানুষ মমতার উন্নয়নকেই বেছে নেবে।
এখন প্রশ্ন হলো, ৪ মে কি সত্যিই বাংলার মসনদে নতুন কোনো মুখ দেখা যাবে? না কি সমীক্ষার সব হিসেব উল্টে দিয়ে হ্যাটট্রিক করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? আপাতত চাণক্যের এই ‘১৯২’ সংখ্যাটি নিয়ে সরগরম পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের সদর দফতর।