শেয়ার বাজারের ধস রুখতেই কি সাজানো সমীক্ষা? মোদী-শাহের ‘শেষ খেলা’ নিয়ে ফাঁস করলেন মমতা

বাংলার হেভিওয়েট বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ মিটতেই শুরু হয়েছে স্নায়ুর লড়াই। বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বুথফেরত সমীক্ষায় (Exit Poll) যখন ‘গেরুয়া ঝড়ে’র ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই আসরে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সমীক্ষাকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তৃণমূল কংগ্রেস ২৩০টি আসন পর্যন্ত পেয়ে অনায়াসেই সরকার গড়বে।
“বিজেপি অফিসের নির্দেশে সমীক্ষা”
বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ তোলেন, এক্সিট পোলের এই পরিসংখ্যান আদতে জনমতের প্রতিফলন নয়, বরং বিজেপির তৈরি করে দেওয়া চিত্রনাট্য। তিনি বলেন, “গতকাল বেলা ১টা ৮ মিনিটে বিজেপির অফিস থেকে সার্কুলার জারি করা হয়েছিল। টাকা দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বাধ্য করা হয়েছে ওই ফল দেখাতে। আসলে সত্যিটা বেরিয়ে পড়লে শেয়ার বাজারে ধস নামবে, তাই বাজারকে সান্ত্বনা দিতেই এই চক্রান্ত।”
কর্মীদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’
সমীক্ষার ফলে তৃণমূল কর্মীদের মনোবল যাতে ভেঙে না পড়ে, তার জন্য বিশেষ টোটকা দিয়েছেন নেত্রী। তাঁর দাবি, ২০১৬ এবং ২০২১ সালেও একইভাবে এক্সিট পোলে তৃণমূলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছিল, কিন্তু ফল বেরিয়েছিল উল্টো। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর কড়া নির্দেশ, “গণনাকেন্দ্রে কড়া নজর রাখুন। আমি নিজে সাংবাদিক বৈঠক না করা পর্যন্ত কেউ কাউন্টিং সেন্টার ছেড়ে নড়বেন না।”
কেন্দ্রীয় বাহিনী ও অত্যাচারের অভিযোগ
ভোটের ময়দানে তৃণমূল কর্মীদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “এবারের ভোটে ইডি, সিবিআই-এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও নজিরবিহীনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। উদয়নারায়ণপুরে আমাদের একজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, এমনকি আমার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও সারারাত রেড হয়েছে। আমি গত দু’দিন ঘুমোতে পারিনি।”
মমতার দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বাংলার মানুষ দুহাত ভরে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “যাঁরা বাংলাকে জব্দ করতে চেয়েছিলেন, তাঁরাই এবার ভোটবাক্সে জব্দ হবেন। আমরা ২২৬ তো পার করবই, সংখ্যাটা ২৩০-এও পৌঁছে যেতে পারে।”
সব মিলিয়ে ৪ মে-র ফলাফল ঘোষণার আগে মমতার এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা তৃণমূল শিবিরে নতুন করে অক্সিজেন জুগিয়েছে। এখন দেখার, ইভিএম খোলার পর নেত্রীর এই ভবিষ্যৎবাণী কতটা মিলে যায়।