খাকি উর্দির আড়ালে লুকিয়ে কোন রহস্য? পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় রাজ্য!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তার আগেই রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা এবং তাঁদের ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ বা শরীরী ভাষা নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার মেদিনীপুরে নিজের মেজাজে ধরা দিয়ে তিনি সাফ জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশের আচরণই বলে দিচ্ছে যে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আসন্ন।
পুলিশের আচরণে কিসের ইঙ্গিত? এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “পুলিশের শরীরী ভাষাই সব বলে দিচ্ছে। বর্তমানে পুলিশ যেভাবে কাজ করছে বা যে পরিস্থিতিতে আছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে তারা বুঝে গেছে হাওয়া কোন দিকে বইছে।” তিনি আরও দাবি করেন, এতদিন যাঁরা শাসকের হয়ে অতি সক্রিয়তা দেখিয়েছেন, ফল প্রকাশের দিন এগিয়ে আসতেই তাঁদের মধ্যে এক ধরণের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিস্ফোরক অভিযোগ দিলীপের: বিজেপি নেতার মতে, পুলিশের একটি বড় অংশ এখন দোটানায় ভুগছে। তাঁর দাবি:
-
নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ির জেরে পুলিশের একাংশ এখন নিরপেক্ষ হতে বাধ্য হচ্ছে।
-
নিচুতলার পুলিশ কর্মীদের মধ্যেও বর্তমান সরকারের কাজকর্ম নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।
-
পুলিশ কর্মীরাও জানেন যে ৪ মে-র পর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়: গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং ইভিএম কারচুপির অভিযোগ নিয়ে যখন নির্বাচন কমিশন বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে, ঠিক তখনই পুলিশের মানসিকতা নিয়ে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য এই মন্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘মানসিক অবসাদের লক্ষণ’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। শাসক শিবিরের দাবি, হার নিশ্চিত জেনে এখন পুলিশ আর প্রশাসনের ওপর দায় চাপাতে চাইছে বিজেপি।
তবে ৪ মে-র মহাযুদ্ধের আগে মেদিনীপুরের ‘দাদা’র এই শরীরী ভাষার পাঠ যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের বারুদ জোগাল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, ৪ মে-র ইভিএম বাক্স খোলার পর কার ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ ঠিক কেমন থাকে।
রাজ্যের ভোটের প্রতি মুহূর্তের খবর এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য ফলো করুন ডেইলিয়ান্ট (DailyHunt)। আপনার এলাকায় পুলিশের ভূমিকা কেমন? আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত।