শীতলকুচি ২? ভোট দিয়ে ফেরার পথে বৃদ্ধের মৃত্যুতে রণংদেহি অভিষেক, হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন ‘প্রত্যেককে খুঁজে বের করব’

দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিনেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাংলার রাজনীতি। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে ভোট দিতে গিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাহিনীর আচরণকে ২০২১ সালের ‘শীতলকুচি মানসিকতা’র সঙ্গে তুলনা করে সুর চড়ালেন তিনি।
কী ঘটেছে উদয়নারায়ণপুরে?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, এক বৃদ্ধ তাঁর ছেলের হাত ধরে বুথে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁদের দু’জনকেই ধাক্কা দেয় এবং হেনস্থা করে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
‘বিজেপির ব্যক্তিগত সেনাবাহিনী’
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক বলেন:
-
তীব্র আক্রমণ: “অমিত শাহের অধীনে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী এখন বিজেপির ‘ব্যক্তিগত সেনাবাহিনী’তে পরিণত হয়েছে। এরা বাংলার সাধারণ মানুষের ওপর লেলিয়ে দেওয়া একদল লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুন্ডা।”
-
শীতলকুচির ছায়া: অভিষেক দাবি করেন, ভোররাত থেকেই বাহিনীর জওয়ানরা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করছে। নারী, বৃদ্ধ এমনকি শিশুদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, এটি ২০২১ সালের সেই কুখ্যাত ‘শীতলকুচি মানসিকতা’রই পুনরাবৃত্তি।
‘জল্লাদদের’ হুঁশিয়ারি দিলেন অভিষেক
কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উদ্দেশ্যে সরাসরি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন:
“বাংলার বুকে ঘুরে বেড়ানো সেই সব ‘জল্লাদদের’ বলছি— আপনারা কোন রাজ্য থেকে এসেছেন বা কার ছত্রছায়ায় আছেন, তাতে কিছু যায় আসে না। এই বর্বরোচিত কাজে জড়িত প্রত্যেককে খুঁজে বের করা হবে এবং আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। আপনাদের ত্রাসের রাজত্ব ধ্বংস হবেই।”
২০২৬-এ বড় মাশুলের ইঙ্গিত
অভিষেক মনে করিয়ে দেন যে, ২০২১ সালে সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরানোর ফল বিজেপিকে ভুগতে হয়েছিল। তাঁর দাবি, ২০২৬-এর নির্বাচনে এই ধরনের আচরণের জন্য বিজেপিকে আরও অনেক বেশি ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।
যদিও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ ভোটের দিন এই মৃত্যু এবং অভিষেকের আক্রমণ রাজনৈতিক উত্তাপকে যে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।