হরমুজ নিয়ে ইরানের ‘মাস্টারপ্ল্যান’! ট্রাম্পের মেজাজ তুঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যে কি তবে মহাপ্রলয়?

পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্র কি এবার আরও ভয়ংকর রূপ নিতে চলেছে? ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সংঘাত মেটানোর বদলে উল্টে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের দেওয়া বিশেষ প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার বদলে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইরানের শর্ত বনাম ট্রাম্পের অনড় অবস্থান তেহরান সম্প্রতি একটি ত্রি-স্তরীয় প্রস্তাব পেশ করেছে। ইরানের দাবি, আগে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলা বন্ধ করতে হবে এবং নৌ-অবরোধ সরিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি।

তবে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবে চূড়ান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সাফ কথা— আগে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় আসতে হবে, তারপর অন্য কিছু।

মার্কো রুবিওর হুঁশিয়ারি মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানকে কোনো মতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, “ওদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এমন চুক্তি চাই যাতে ওরা কোনোদিন পরমাণু শক্তিধর হয়ে উঠতে না পারে।”

ভেস্তে গেল শান্তি বৈঠক ট্রাম্প তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের সফর বাতিল করায় ইসলামাবাদে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটিও ভেস্তে গিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতিমধ্যে রাশিয়া সফরে গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা আমেরিকার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

হরমুজ প্রণালীতে হাহাকার বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যাতায়াত করে যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে, তা এখন কার্যত নিথর। আগে যেখানে দৈনিক ১০০টির বেশি জাহাজ চলত, এখন সেখানে যাতায়াত করছে হাতে গোনা কয়েকটা মাত্র ভেসেল। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, অবরোধ উঠলে তারা হরমুজ খুলে দেবে। কিন্তু ওয়াশিংটন নতিস্বীকার করতে নারাজ।

সম্মেলনে সংঘাত জাতিসংঘের এনপিটি (NPT) সম্মেলনে ইরানকে সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছে, যারা নিয়ম মানে না, তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো বিপজ্জনক।

সব মিলিয়ে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের এই ইগো-লড়াইয়ে এখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি থেকে শুরু করে বড়সড় সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।