“খেলা ওরা শুরু করেছে, ফিনিশিং আমি করব!”—অনিল বসুর জমানার কথা মনে করিয়ে বিজেপি-সিপিএমকে চরম বার্তা তৃণমূল সেনাপতির

২০১১ সালে পরিবর্তনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্লোগান দিয়েছিলেন, “বদলা নয়, বদল চাই”। কিন্তু ১৫ বছর পর সেই নীতি থেকে যেন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আরামবাগে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অত উদার নই। ৪ঠা মে ভোটের ফল বেরোনোর দিনই সুদে-আসলে জবাব দেওয়া হবে।”
কেন হঠাৎ এতোটা আক্রমণাত্মক অভিষেক?
সোমবার আরামবাগের গোঘাটে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। অভিযোগ, বিজেপির হামলায় জখম হয়েছেন তৃণমূলের বিদায়ী সাংসদ মিতালী বাগ। এদিন আরামবাগ হাসপাতালে গিয়ে মিতালী দেবীর সাথে দেখা করেন অভিষেক। সেখান থেকে বেরিয়েই রীতিমতো রুদ্রমূর্তিতে দেখা যায় তাঁকে। জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদারতা অনেক দেখিয়েছেন, কিন্তু এবার আরামবাগের স্টিয়ারিং আমার হাতে থাকবে। ওরা যে ভাষা বোঝে, আমি সেই ভাষাতেই জবাব দেব।”
সিপিএম-বিজেপিকে কড়া আক্রমণ
বাম জমানার দাপুটে নেতা অনিল বসুর নাম উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, “যাঁরা মিতালী দির উপর হামলা করেছে, তাঁদের ছেড়ে দিলে চলবে না। ছেড়ে দিলেই আবার অনিল বসুদের বাহিনী রাজত্ব শুরু করবে। সিপিএম-এর সেই হার্মাদরাই এখন বিজেপির ছত্রছায়ায় গিয়ে নেতা সেজেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে ‘বদলা’ না নিয়ে ভুল করেছিলেন। সেদিন বদলা নিলে অনিল বসুর ছেলেকে আজ বাংলায় থাকতে হতো না।”
অভিষেকের ‘ফিনিশিং’ আর মাস্টারস্ট্রোক:
আরামবাগের জনতাকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অভিষেক বলেন:
“খেলা ওরা শুরু করেছে মিতালী দি-র ওপর আক্রমণ করে, আর ফিনিশিংটা আমি করব।”
পাশাপাশি এলাকার মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করতে বড় এক ঘোষণাও করেন তিনি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, আরামবাগের মানুষ তৃণমূলকে জেতালে আরামবাগকে আলাদা জেলা ঘোষণা করবে রাজ্য সরকার। একইসাথে মোদীর গ্যারান্টিকে চ্যালেঞ্জ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং বার্ধক্য ভাতার উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে:
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এবারের নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক বেশি আগ্রাসী। একদিকে উন্নয়নের খতিয়ান, অন্যদিকে বিরোধীদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি—এই দুই অস্ত্রে ভর করেই দ্বিতীয় দফার আগে নিজের দুর্গ রক্ষা করতে মরিয়া তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড।