বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধামাকা! যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি ফেরাতে ট্রাম্পকে পাকিস্তানের মাধ্যমে গোপন চিঠি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কি তবে অবশেষে শান্তির সূর্য উঠবে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই ইরানের সুর বদল নিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে জল্পনা। পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে একটি ৩ দফার বিশেষ ‘শান্তি প্রস্তাব’ পাঠিয়েছে তেহরান। যেখানে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ থামানোর কথা থাকলেও, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে এখনই কোনও আপস করতে রাজি নয় ইরান।
কী আছে ইরানের ৩ দফার ‘মাস্টারপ্ল্যানে’?
তেহরান সূত্রে খবর, এই প্রস্তাবটি সরাসরি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে। আলোচনার তিনটি ধাপ রয়েছে:
-
ধাপ ১ (যুদ্ধ বিরতি): প্রথমেই ইজরায়েল ও আমেরিকার যাবতীয় সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। ইরান এবং লেবাননের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনও যুদ্ধ হবে না—এমন গ্যারান্টি পেলেই ইরান পরবর্তী ধাপে যাবে।
-
ধাপ ২ (মুক্ত হরমুজ প্রণালী): যুদ্ধ থামলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ খুলে দেওয়া হবে। ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে এই জলপথ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতেও রাজি তেহরান।
-
ধাপ ৩ (পরমাণু ইস্যু): উপরের দুটি পর্যায় সফল হলে তবেই নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসবে ইরান। তার আগে এই বিষয়ে কোনও ছাড় দিতে নারাজ তারা।
ট্রাম্পের ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বনাম ইরানের কৌশল
ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইরানের ওপর চরম চাপ সৃষ্টির নীতি নিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত খুঁজে বের করে তা ধ্বংস করা হবে, যাকে তিনি ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বল এখন ট্রাম্পের কোর্টে ঠেলে দিয়েছে। কারণ, হরমুজ প্রণালী খুলে গেলে তেলের দাম কমবে, যা আমেরিকার অর্থনীতির জন্য লাভজনক। কিন্তু পরমাণু ইস্যুকে আলোচনার শেষে রেখে ইরান আসলে সময় কিনতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
মস্কো সফর ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এই প্রস্তাব পাঠানো চলাকালীনই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পৌঁছে গিয়েছেন রাশিয়ায়। সেখানে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে তাঁর হাই-ভোল্টেজ বৈঠক হওয়ার কথা। এর আগে পাকিস্তানে সরাসরি মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে বসতে রাজি হয়নি ইরান। এবার সেই পাকিস্তানকেই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে ওয়াশিংটনকে বার্তা দিল তেহরান।