“৪ তারিখের পর ওরা চলে যাবে, আপনাদের থাকতে হবে!” পুলিশকে চরম হুঁশিয়ারি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতার

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ৯৩.১৯ শতাংশ ভোটদানের বিশ্বরেকর্ডের পর এবার নজর দ্বিতীয় দফায়। আর তার ঠিক আগেই শেষ রবিবারে বা ‘সুপার সানডে’-তে ভবানীপুরের সভা থেকে একগুচ্ছ চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশকে একযোগে আক্রমণ শানিয়ে তিনি দাবি করলেন, এবার নাকি ইভিএম (EVM) ‘ক্যাপচার’ করার এক অভিনব ও ভয়ঙ্কর ছক কষা হচ্ছে।
“কম্বল মুড়ি দিয়ে গুন্ডা ঢোকানো হচ্ছে!”
এদিন ভবানীপুরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশ যোগসাজশ করে বুথে অপরাধীদের ঢোকাচ্ছে। তাঁর বিস্ফোরক বয়ান:
“আমি কাল দুটো খবর পেয়েছি। সেন্ট্রাল ফোর্স কম্বল দিয়ে ঢেকে ক্রিমিনালদের নিয়ে যাচ্ছে। লোডশেডিং করে দেওয়া হচ্ছে এলাকায়। কারেন্ট অফ করে কম্বল মুড়ি দিয়ে আর মুখোশ পরে গিয়ে ইভিএম লুঠ করার চেষ্টা চলছে। বিজেপি ভয় পেয়ে গিয়েছে বলেই এখন গুন্ডা-গদ্দারি করছে।”
পুলিশকে সরাসরি হুঁশিয়ারি
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে একের পর এক ওসি (OC) এবং জেলাশাসক বদল নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পুলিশের উদ্দেশে তাঁর সাফ বার্তা:
“পুলিশ তো এখন বিজেপির কথা মতো চলছে। এরা শুধু আমাদের দলের ছেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। মনে রাখবেন, ৪ তারিখ গণনার পর কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে যাবে, কিন্তু পুলিশকে এই রাজ্যেই থাকতে হবে। নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করুন।”
স্ট্রংরুম নিয়ে উদ্বেগ
প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই জেলায় জেলায় স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ঘাসফুল শিবির। এদিন মমতা ফের সেই আশঙ্কার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন যে বিজেপি হার নিশ্চিত বুঝেই ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে তাঁর প্রশ্ন, কেন বাহিনীর নাকের ডগায় ইভিএম দখলের চেষ্টা হচ্ছে?
প্রচারের শেষ দিনে মমতার এই আক্রমণাত্মক মেজাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে, ২৯ এপ্রিলের লড়াই কতটা হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে। আগামী ৪ মে ইভিএম খোলার পরই পরিষ্কার হবে, বাংলার ‘জনতা-জনার্দন’ মমতার এই অভিযোগে কর্ণপাত করলেন নাকি পদ্ম শিবিরের পক্ষেই রায় দিলেন।