কোটি কোটি টাকার মালিক অদিতি! নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির খতিয়ান আসতেই তৃণমূল প্রার্থীর দিকে ধেয়ে এল আক্রমণ

বিধানসভা ভোটের (২০২৬) লড়াই শুরু হতে না হতেই রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী পারদ তুঙ্গে। তবে এবার কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূল প্রার্থী তথা খ্যাতনামা কীর্তন শিল্পী অদিতি মুন্সির (Aditi Munshi) উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়া সম্পত্তির খতিয়ান। বিরোধীদের অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে তৃণমূল প্রার্থীর সম্পত্তি বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ, যা নিয়ে সরাসরি দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছে বিজেপি।

হলফনামার ‘বিস্ফোরক’ তথ্য

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া অদিতির হলফনামা অনুযায়ী, গত ৫ বছরে তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিজেপির দাবি:

  • সম্পত্তির বৃদ্ধি: ২০২১ সালের নির্বাচনের সময় অদিতির যে পরিমাণ সম্পদ ছিল, ২০২৬-এ এসে তা কয়েক গুণ ছাড়িয়ে গেছে।

  • গাড়ি ও গয়না: হলফনামায় তাঁর দামী গাড়ি এবং কয়েক ভরি সোনার গয়নার খতিয়ানও সামনে এসেছে।

  • বিজেপির প্রশ্ন: একজন বিধায়কের বেতন ও সঙ্গীত জীবন থেকে আয় করে কীভাবে মাত্র ৫ বছরে এই পরিমাণ সম্পদ বৃদ্ধি সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গেরুয়া শিবির।

বিজেপির তোপ: ‘দুর্নীতির ফসল’

রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তেওয়ারি এবং অন্যান্য নেতারা এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে প্রচারে নেমেছেন। তাঁদের বক্তব্য:

“সাধারণ মানুষ দুবেলা দুমুঠো অন্নের সংস্থান করতে হিমশিম খাচ্ছে, আর তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সম্পত্তি রকেটের গতিতে বাড়ছে। এটা কি কেবলই পরিশ্রমের ফল নাকি এলাকার সাধারণ মানুষের পকেট কাটার ফসল?”

অদিতির পাল্টা জবাব

যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন অদিতি মুন্সি। তাঁর সমর্থকদের দাবি, শিল্পী হিসেবে দীর্ঘদিনের কেরিয়ার এবং বিধায়ক হিসেবে পাওয়া ভাতার ওপর ভিত্তি করেই তাঁর আয় বেড়েছে। তিনি কোনো তথ্য গোপন করেননি এবং সমস্ত সম্পদই বৈধ পথে অর্জিত। প্রচারে বেরিয়ে অদিতির স্পষ্ট কথা:

“সাধারণ মানুষ জানেন আমি কী করি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করে ভোটারদের মন ঘোরানো যাবে না।”

নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব?

রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রে এই সম্পত্তির লড়াই এখন টক-অফ-দ্য-টাউন। একদিকে তৃণমূলের উন্নয়ন ও অদিতির জনপ্রিয় ভাবমূর্তি, অন্যদিকে বিজেপির তোলা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ— এই দুইয়ের দ্বৈরথে কার পাল্লা ভারী হয়, তার উত্তর দেবে আগামী দফার নির্বাচন।