ভোটের দিন কি বড় কারচুপির ছক? ইভিএম আতঙ্ক নিয়ে এবার খোদ কমিশনকে কাঠগড়ায় তুললেন মমতা!

উত্তর কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বরদান মার্কেটের জনসভা থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ের পারদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, দ্বিতীয় দফার ভোটে ইভিএম (EVM) যন্ত্রে কারচুপি হতে পারে। গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে কর্মীদের এবার বুথেই ‘বড় লড়াই’ লড়ার নির্দেশ দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
ইভিএম নিয়ে ঠিক কী বললেন মমতা?
এদিন জনসভায় দাঁড়িয়ে মমতা অভিযোগ করেন, বেশ কিছু জায়গায় ইভিএম মেশিনে কারিগরি করার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি:
“কমিশনকে সামনে রেখে কোনো কোনো শক্তি ইভিএম-এর ভেতর ঢুকে পড়ার চেষ্টা করছে। ভোটারদের রায় যাতে বদলে দেওয়া যায়, তার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে। আমি কমিশনকে বলছি, নিরপেক্ষ থাকুন। আগুন নিয়ে খেলবেন না।”
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
তৃণমূল নেত্রীর নিশানায় কেবল বিরোধীরা নয়, এদিন প্রধান টার্গেট ছিল নির্বাচন কমিশনও। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো একপাক্ষিক কাজ করছে এবং সরকারি কর্মীদের ইচ্ছামতো বদলি করে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বরদান মার্কেটের ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আপনাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব আমার, কিন্তু আপনারা ইভিএম পাহারায় কোনো ভুল করবেন না।”
কর্মীদের জন্য মমতার ‘মাস্টার প্ল্যান’:
ইভিএম কারচুপি রুখতে মমতা বেশ কিছু দাওয়াই দিয়েছেন:
-
মেশিন চেকিং: ভোট শুরুর আগে ‘মক পোল’ (Mock Poll)-এ কড়া নজর রাখা।
-
সিল পরীক্ষা: ভোট শেষ হওয়ার পর ইভিএম মেশিনের নম্বর এবং সিল ঠিকঠাক আছে কি না, তা বারবার মিলিয়ে নেওয়া।
-
জেরক্স রাখুন: প্রতিটি ফর্ম এবং নথির জেরক্স কপি নিজেদের কাছে সুরক্ষিত রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বিজেপির পাল্টা তোপ
মমতার এই অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা দিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, “হার নিশ্চিত জেনেই এখন ইভিএম-এর ওপর দায় চাপানোর রাস্তা খুঁজছেন মুখ্যমন্ত্রী।” বরদান মার্কেটের মতো এলাকায় তাঁর এই বক্তব্য ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা মাত্র বলেও কটাক্ষ করেছে বিজেপি।
তিলোত্তমার রাজনীতি এখন ইভিএম কারচুপি বনাম স্বচ্ছ ভোট— এই দুই বিতর্কে উত্তাল। দ্বিতীয় দফার লড়াইতে কার দাবি শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়, তা দেখার অপেক্ষায় গোটা রাজ্য।