“তৃণমূলের আরও ঘনিষ্ঠ পরমব্রত”-ধুলো-রোদ উপেক্ষা করে তৃণমূলের প্রচারে অভিনেতা

টলিউডে তিনি বুদ্ধিজীবী অভিনেতা হিসেবে পরিচিত। তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হিসেবে তাঁর পরিচিতি দীর্ঘদিনের হলেও, সরাসরি সক্রিয় রাজনীতির মঞ্চে তাঁকে আগে দেখা যায়নি। কিন্তু ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বদলে গেল ছবিটা। অবশেষে রাজনীতির ময়দানে ‘ডেবিউ’ করলেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। শনিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগর দক্ষিণে তৃণমূলের নির্বাচনী সভায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।

কেন হঠাৎ প্রচারে পরমব্রত?

অনেকেই ভেবেছিলেন ২০২৬-এর এই মহারণে হয়তো প্রার্থী করা হবে পরমব্রতকে। টিকিট না মিললেও মমতার সরকারের সমর্থনে এদিন ময়দানে নামলেন তিনি। কৃষ্ণনগর দক্ষিণের প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাসের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় জুন মালিয়ার সঙ্গে দেখা গেল পরমকে। নীল-সাদা তৃণমূলী উত্তরীয় গলায় জড়িয়ে চক দিগনগর হাইস্কুলের মাঠে রীতিমতো ‘পলিটিক্যাল স্পিচ’ দিলেন অভিনেতা।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে পরমের বিস্ফোরক বার্তা

মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের নতুন সফরের কথা জানিয়ে পরমব্রত বলেন:

  • “আজ ব্যক্তিগতভাবে আমার এই রাজনৈতিক মঞ্চে যাত্রা শুরু হচ্ছে।”

  • তাঁর মতে, এই নির্বাচন শুধু ভোট নয়, বরং “বাংলা-বাঙালির আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই”

  • রোদ-ধুলো উপেক্ষা করে জনসভায় আসা মহিলাদের সুরক্ষার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বাইরের রাজ্য থেকে লোক এসে বাংলার মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে জ্ঞান দিয়ে যাবে, আর আমরা তা মেনে নেব—এটা হতে পারে না।”

নিরাপদ বাংলার সওয়াল

পরমব্রত এদিন সরাসরি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন যে, যে সব রাজ্যে নারী নিগ্রহের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক, সেখান থেকে আসা নেতাদের জ্ঞান দেওয়ার অধিকার নেই। বরং ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বাংলাকে মহিলাদের জন্য নিরাপদ রাজ্য হিসেবে তুলে ধরেন।

ছেলের অন্নপ্রাশনে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো পরমব্রত কি তবে ২০২৬-এর পর তৃণমূলের বড় কোনও পদ পেতে চলেছেন? কৃষ্ণনগরের এই সভার পর সেই জল্পনাই এখন তুঙ্গে।