ভোটের আগেই কালীঘাটে বড় চমক! মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার থানায় ওসি বদল করল নির্বাচন কমিশন

দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে খাস কলকাতায় বড়সড় রদবদল ঘটাল নির্বাচন কমিশন। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়া অর্থাৎ কালীঘাট থানার ওসি-কে সরিয়ে দেওয়া হলো। সেই সঙ্গে আলিপুর এবং উল্টোডাঙা মহিলা থানাতেও আনা হয়েছে নতুন মুখ। মঙ্গলবার বিকেলেই বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই রদবদলের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

কালীঘাটে এক মাসেই ফের বদল:
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো কালীঘাট থানার ওসি পরিবর্তন। গত ২৯ মার্চ এই থানার দায়িত্বে আনা হয়েছিল লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের দুঁদে অফিসার উৎপল ঘোষকে। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই তাঁকে সরিয়ে দিল কমিশন। তাঁর জায়গায় নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের গৌতম দাস। শুধু ওসি নন, কালীঘাট থানার অতিরিক্ত ওসি পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বর্তমান আধিকারিককে, সেই জায়গায় আসছেন উত্তম পাইক।

নজরে আরও দুই থানা:
শুধুমাত্র কালীঘাট নয়, কমিশনের স্ক্যানারে ছিল আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ থানা:

আলিপুর থানা: এই থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন সুব্রত পাণ্ডে।

উল্টোডাঙা মহিলা থানা: এই থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চামেলি মুখোপাধ্যায়কে। উল্লেখ্য, তিনি এর আগে আলিপুর থানার অতিরিক্ত ওসি হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন।

ভবানীপুর যুদ্ধের জের?
আগামী ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ বুধবার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। একদিকে প্রার্থী খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিজেপি-র হেভিওয়েট মুখ শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২১-এর নন্দীগ্রাম যুদ্ধের ছায়া এবার ভবানীপুরে। এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে যাতে কোনোভাবেই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না ওঠে এবং আইন-শৃঙ্খলা কঠোর রাখা যায়, সেই উদ্দেশ্যেই কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ।

কমিশনের কড়া বার্তা:
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যে সমস্ত আধিকারিকদের এই মুহূর্তে বদলি করা হচ্ছে, ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কোনো নির্বাচনী কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে যে কোনো আপস করা হবে না, এই পদক্ষেপে সেই বার্তাই দিল কমিশন।