ভারতের হাতেই পাকিস্তানের ভাগ্য! নদী চুক্তিতে বড়সড় ধাক্কা দিতে চলেছেন মোদী? জলকষ্টে শুকিয়ে মরছে পড়শি দেশ

একদিকে রেকর্ড ভাঙা দাবদাহ, অন্যদিকে তীব্র জলকষ্ট— এই দুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে বর্তমান পাকিস্তানের অবস্থা এখন শোচনীয়। গ্রীষ্মকাল শুরু হতে না হতেই ওপার বাংলায় হাহাকার শুরু হয়েছে। কিন্তু এই চরম সংকটেও ইসলামাবাদের প্রতি বিন্দুমাত্র নরম হতে নারাজ ভারত। সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে নয়াদিল্লির কঠোর অবস্থানে এখন কোণঠাসা পড়শি দেশ।

পাক সীমান্তে জল-সংকট: পাকিস্তানের পাঞ্জাব এবং সিন্ধু প্রদেশ এখন কার্যত মরুভূমিতে পরিণত হতে চলেছে। জলাধারের জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষি থেকে পানীয় জল— সর্বত্রই সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের থেকে বাড়তি জল পাওয়ার আশায় ছিল পাকিস্তান। কিন্তু মোদী সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ এবং চুক্তির শর্তাবলী রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।

মোদীর ‘ওয়াটার পলিটিক্স’: বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দীর্ঘদিন ধরেই ‘রক্ত এবং জল একসাথে বইতে পারে না’— এই নীতিতে অটল। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ দমনে নদী জলকে এক বড় কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত। ঝিলম, চেনাব এবং সিন্ধু নদের ওপর একের পর এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তুলে পাকিস্তান অভিমুখী অতিরিক্ত জলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে ভারত।

চুক্তিতে সংশোধন চাইছে ভারত: ইতিমধ্যেই কিষাণগঙ্গা এবং রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে পাকিস্তানের আপত্তির কড়া জবাব দিয়েছে নয়াদিল্লি। উল্টে ১৯৬০ সালের পুরনো সিন্ধু জল চুক্তি সংশোধনের জন্য পাকিস্তানকে কড়া নোটিশ পাঠিয়েছে ভারত। ভারতের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তির শর্ত পাল্টানো জরুরি। আর ভারতের এই কড়া অবস্থানে পাকিস্তানের কৃষিব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

এক নজরে পাকিস্তানের বর্তমান দশা:

  • জলাধার: পাকিস্তানের বড় বাঁধগুলোতে জলস্তর মৃতপ্রায়।

  • কৃষি: গমের ফলন ও তুলা চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা।

  • বিদ্যুৎ: জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় দিনের পর দিন লোডশেডিং।