বিদেশেও পৌঁছাত প্রতারণার জাল! খাস কলকাতায় সক্রিয় আন্তঃরাজ্য সাইবার চক্রের পর্দাফাঁস, সতর্ক হোন আপনিও!

তিলোত্তমায় ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভুয়ো কলসেন্টার চক্র। তবে পুলিশের তৎপরতায় বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হলো। খাস কলকাতায় কলসেন্টারের আড়ালে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্র চালানোর অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শনিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শহরের একটি অভিজাত এলাকায় হানা দিয়ে এই চক্রের পর্দাফাঁস করেন লালবাজারের সাইবার শাখার আধিকারিকরা।

যেভাবে চলত প্রতারণার জাল: পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতরা মূলত তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবার নাম করে একটি অফিস ভাড়া নিয়েছিল। সেখান থেকেই বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষকেও ফোন করা হতো। কখনও ‘টেকনিক্যাল সাপোর্ট’, কখনও আবার ‘ব্যাঙ্ক কেওয়াইসি (KYC)’ আপডেটের নাম করে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিত তারা। এরপর নিমেষের মধ্যে অ্যাকাউন্ট সাফ করে দেওয়া হতো।

অভিযানে কী কী উদ্ধার হলো? তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ওই ভুয়ো কলসেন্টার থেকে প্রচুর নথিপত্র এবং ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। তালিকায় রয়েছে:

  • ল্যাপটপ ও ডেক্সটপ কম্পিউটার

  • মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড

  • আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের ডেটা শিট

  • প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত হেডসেট ও রাউটার

তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য: প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন ভিন রাজ্যের বাসিন্দা। তারা ডার্ক ওয়েব (Dark Web) থেকে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য বা লিড কিনত। মূলত আমেরিকার নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই চক্র চালানো হতো বলে গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান। ধৃত ৬ জনকে জেরা করে এই চক্রের মূল পান্ডার খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

সতর্কতা বার্তা: লালবাজারের সাইবার বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, ইদানীং কলসেন্টারের আড়ালে এই ধরণের জালিয়াতি বাড়ছে। তাই যেকোনো অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলে এবং ব্যক্তিগত তথ্য বা ওটিপি (OTP) চাইলে তা শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।