“পার্টনার খোঁজো আর প্রেম করো,”-সব খরচ যোগাবে এই দেশের সরকার, জেনেনিন কোথায়?

মন দেওয়া-নেওয়ার জন্য এবার আর নিজের পকেটের কড়ি খরচ করতে হবে না! ডেটিং অ্যাপে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নিতে সরকারি ভর্তুকি দেবে প্রশাসন। অবাক মনে হলেও, দেশের পড়তি জন্মহার রুখতে এমনই এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে জাপান সরকার। মূলত তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একে অপরের কাছাকাছি আনতেই এই সিদ্ধান্ত।

কেন এই ‘প্রেমের ভর্তুকি’?

জাপান এখন বিশ্বের দ্রুততম ‘বৃদ্ধ’ দেশগুলির একটি। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সে দেশের ২৯ শতাংশ মানুষের বয়সই ৬৫ বছরের বেশি। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে জন্মহার নেমে এসেছে মাত্র ৭ লক্ষের আশেপাশে। লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতি এবং ক্যারিয়ারের চাপে জাপানি তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিয়ে বা সম্পর্কের প্রতি তৈরি হয়েছে চূড়ান্ত অনীহা। এই নিঃসঙ্গতা কাটিয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধি করাই এখন সরকারের মূল এজেন্ডা।

পকেটে আসবে কত টাকা?

জাপানের কোচি (Kochi) প্রদেশে চালু হওয়া এই ‘মিটিং সাপোর্ট প্রজেক্ট গ্র্যান্ট’-এর আওতায়:

  • বয়সসীমা: ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী অবিবাহিতরা এই সুবিধা পাবেন।

  • ভর্তুকির পরিমাণ: বছরে সর্বোচ্চ ২০,০০০ ইয়েন (প্রায় ১১,৭৫২ টাকা) পর্যন্ত নগদ সাহায্য মিলবে।

  • ব্যবহার: এই টাকা দিয়ে ডেটিং বা ম্যাচ-মেকিং অ্যাপের রেজিস্ট্রেশন ফি ও সাবস্ক্রিপশন চার্জ মেটানো যাবে।

শুধু অ্যাপ নয়, অফলাইনেও আড্ডা:

২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। প্রশাসন শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নেই। যে সব সংস্থা যুবক-যুবতীদের সামনাসামনি আলাপ করানোর জন্য ‘অফলাইন ইভেন্ট’ বা মেলামেশার আয়োজন করে, তাদেরও বিপুল আর্থিক অনুদান দিচ্ছে সরকার। লক্ষ্য একটাই—যাতে তরুণ প্রজন্ম একে অপরের সঙ্গে বেশি সময় কাটায় এবং পরিণতির দিকে এগোয়।

ভবিষ্যতের চিন্তা:

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ প্রজন্মের আর্থিক দুশ্চিন্তা দূর করে তাঁদের নতুন সম্পর্কে উৎসাহিত করতে না পারলে জাপানের জনসংখ্যা সংকট আরও গভীর হবে। এখন দেখার, সরকারি খরচে প্রেমের এই ‘অফার’ জাপানি তরুণদের মনে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে।