মহাকাশে এবার রকেট পাঠাবে বেসরকারি কোম্পানি, জেনেনিন এতে লাভ কী?

ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা মুহূর্তের অপেক্ষা। ইসরো (ISRO)-র পাশাপাশি এবার বেসরকারি মহাকাশ যাত্রাতেও বিশ্বের নজর কাড়তে চলেছে ভারত। ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট ‘Vikram-1’ উৎক্ষেপণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল হায়দরাবাদের স্টার্টআপ সংস্থা Skyroot Aerospace।
সম্প্রতি হায়দরাবাদের ম্যাক্স-কিউ (MAX-Q) ক্যাম্পাসে রকেটটির লঞ্চ প্রসেসের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ. রেভান্থ রেড্ডি। সেখান থেকেই রকেটটিকে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের (SDSC) উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের নিজস্ব প্রাইভেট স্পেস ইকোসিস্টেম তৈরির পথে একটি বিরাট মাইলফলক।
সফল অগ্নিপরীক্ষা: কী জানাল Skyroot?
সংস্থাটি জানিয়েছে, মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার আগে সবথেকে কঠিন পরীক্ষা অর্থাৎ Integrated Electrical Test (IET) Campaign-Phase 3 সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ‘বিক্রম-১’। এই ধাপে দেখা হয়, রকেটের ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম, গ্রাউন্ড সফটওয়্যার এবং সেন্সরগুলো আসল উৎক্ষেপণের সময় একে অপরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে কি না। ইঞ্জিনিয়ারদের কড়া নজরদারিতে প্রতিটি সেন্সর ও অ্যাকচুয়েটর নিখুঁতভাবে কাজ করেছে।
কেন লাভজনক এই বেসরকারি রকেট ব্যবসা?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, বেসরকারি রকেট পাঠিয়ে ভারতের কী লাভ? এর উত্তর লুকিয়ে আছে বিশ্ববাজারের চাহিদায়:
-
স্যাটেলাইট ডেলিভারি: বর্তমানে জিপিএস, প্রতিরক্ষা এবং হাই-স্পিড ইন্টারনেটের জন্য ছোট ও মাঝারি স্যাটেলাইটের চাহিদা তুঙ্গে। বিভিন্ন দেশ ও বড় সংস্থা কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে এই রকেটগুলো ভাড়া করে।
-
রাইড-শেয়ার মডেল: ট্যাক্সির মতো এক রকেটেই অনেক কোম্পানির ছোট ছোট স্যাটেলাইট মহাকাশে পৌঁছে দেয় Skyroot। এতে গ্রাহকের খরচ কমে এবং সংস্থার লাভ বাড়ে।
-
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: শুধু স্যাটেলাইট নয়, আগামী দিনে স্পেস ট্যুরিজম বা মহাকাশ পর্যটন এবং মহাকাশ স্টেশন তৈরির মতো বিশাল বাণিজ্যিক ক্ষেত্র উন্মোচিত হতে চলেছে, যেখানে ভারতের এই অগ্রযাত্রা দেশের অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।