রেশন দুর্নীতির ৭৫% টাকাই গিয়েছে মমতার বাড়িতে! ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে বোমা ফাটালেন শুভেন্দু!

দ্বিতীয় দফার মহারণের আগে ফের তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। একদিকে যখন সাতসকালে হাবড়া থেকে বর্ধমান— রাজ্যের ৯টি জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশিতে নেমেছে ইডি (ED), ঠিক তখনই ভবানীপুরের মাটি থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রেশন দুর্নীতির লভ্যাংশের সিংহভাগ টাকা পৌঁছেছে খোদ কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতেই!
শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবি: “৭৫ শতাংশ টাকা মমতার বাড়িতে”
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতির অঙ্কের এক চাঞ্চল্যকর খতিয়ান তুলে ধরেন। জেলবন্দি প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম টেনে তিনি বলেন:
“হাবরার প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ১০ হাজার কোটি টাকার রেশন দুর্নীতি করেছেন। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, সেই দুর্নীতির অন্তত ৭৫ শতাংশ টাকা মমতার বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।”
শুভেন্দুর এই আক্রমণ রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন দিনকয়েক আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্যোতিপ্রিয়কে ‘নির্দোষ’ বলে ক্লিনচিট দিয়েছিলেন।
ইডির জালে রেশনের ‘বস্তা বদল’ ছক
শনিবার ইডির অভিযানে রেশনের গম পাচারের এক ভয়ানক তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি:
-
এফসিআই (FCI) এবং রাজ্য সরকারের ছাপ মারা বস্তা থেকে সরকারি গম বের করে নেওয়া হতো।
-
সেই গম ভরা হতো সাধারণ সাদা বস্তায়।
-
এরপর সেই গম খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি অথবা সীমান্তের ওপাড়ে বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হতো। এই বিশাল চেইনটি প্রভাবশালী নেতা, সরবরাহকারী এবং দালালদের যোগসাজশে চলত বলে অভিযোগ।
মমতার ‘রক্ষণ’ বনাম শুভেন্দুর ‘আক্রমণ’
কদিন আগে হাবড়ার জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, সিপিএম আমলের ভুয়া রেশন কার্ড বাতিল করার কারণেই আক্রোশবশত জ্যোতিপ্রিয়কে ফাঁসানো হয়েছে। কিন্তু ইডির সাম্প্রতিক তৎপরতা এবং শুভেন্দুর সরাসরি ‘কালীঘাট সংযোগ’-এর দাবি শাসকদলকে প্রবল অস্বস্তিতে ফেলেছে।
সম্পাদকীয় কলম: দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে রেশন দুর্নীতির এই নতুন মোড় ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘ক্লিনচিট’, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতার ‘টাকার ভাগ’ সংক্রান্ত অভিযোগ— বঙ্গ রাজনীতির এই লড়াই এখন দুর্নীতির গোলকধাঁধায়।