তেল ছাড়াই কি করতে হবে রান্না? বিশ্বের বৃহত্তম আমদানিকারক ভারতেই পাম তেলের টান, মাথায় হাত মধ্যবিত্তের!

পেঁয়াজ-রসুনের দাম নিয়ে নাজেহাল আমজনতার জন্য এবার আরও এক দুঃসংবাদ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ভারত এক ভয়াবহ ভোজ্য তেলের সঙ্কটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত পাম তেলের (Palm Oil) জোগানে টান পড়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের।

কেন এই উদ্বেগ? ভারত বিশ্বের সবথেকে বড় পাম তেল আমদানিকারক দেশ। আমাদের দেশে রান্নার তেলের চাহিদার একটি বিশাল অংশ মেটানো হয় বিদেশ (বিশেষত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া) থেকে আনা পাম তেলের মাধ্যমে। কিন্তু সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রপ্তানিকারক দেশগুলির নতুন নিয়মের গেরোয় আমদানির হার ব্যাপক হারে কমেছে। প্রতি বছর ভারত যে বিপুল পরিমাণ পাম তেল আমদানি করে, তাতে টান পড়লে গোটা দেশের ভোজ্য তেলের বাজারে ধস নামতে পারে।

সঙ্কটের কারণ ও প্রভাব: ১. আন্তর্জাতিক সরবরাহ বিঘ্নিত: প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলি নিজেদের জৈব জ্বালানি (Bio-fuel) নীতিতে পরিবর্তন আনায় ভোজ্য তেল রপ্তানিতে কাটছাঁট করছে। ২. দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা: জোগান কমলে স্বাভাবিক নিয়মেই পাম তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে। যার প্রভাব সরাসরি পড়বে সয়াবিন বা সরষের তেলের ওপরেও। ৩. খাদ্যশিল্পে বিপর্যয়: স্রেফ বাড়ির রান্নাই নয়, বিস্কুট, চিপস, চকোলেট থেকে শুরু করে সাবান তৈরির ক্ষেত্রেও পাম তেল অপরিহার্য। ফলে এই প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের অবস্থান: ভারত প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৯০ লক্ষ টন পাম তেল আমদানি করে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম হওয়ায় বিদেশের ওপর এই নির্ভরশীলতাই এখন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মজুত তেলের পরিমাণ (Stock) কমতে শুরু করায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ ভারতের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে।

সরকারের পদক্ষেপ: পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র সরকার বিকল্প দেশগুলি থেকে তেল আমদানির চেষ্টা চালাচ্ছে। একইসঙ্গে কালোবাজারি রুখতে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। তবে উৎসবের মরসুমের আগে এই তেলের আকাল সাধারণ মানুষের পকেটে কতটা টান ফেলে, সেটাই এখন দেখার।