ভোটের সকালেই ‘প্রিয় ভাই’র সঙ্গে গোপন বৈঠক! কী নির্দেশ দিলেন ‘মোটাভাই’? ফাঁস করলেন মমতা

লোকসভা নির্বাচনের আবহে ফের তপ্ত বাংলার রাজনীতি। এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাঠগড়ায় তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার উত্তরপাড়ার জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের গতি কমিয়ে দিতে এবং ভোটারদের বাধা দিতে বিশেষ ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি।
‘মোটাভাই’-এর গোপন মিটিং ও সিআরপিএফ প্রসঙ্গ
উত্তরপাড়ায় তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় ও চন্দননগরের প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেনের সমর্থনে আয়োজিত সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, শনিবার সকালেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব সিআরপিএফ-এর আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নাম না করে অমিত শাহকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন:
“আজ সকালে আমার খুব প্রিয় ভাই, ‘মোটাভাই’—যাঁকে নন্দীগ্রামে ভোট লুঠ করতে পাঠিয়েছিলেন, তাঁকে নিয়ে মিটিং করেছেন। বলেছে ভোট স্লো করে দাও, লোকে যেন ভোট দিতে না পারে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও একই কৌশল প্রয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এক শীর্ষ সিআরপিএফ কর্তাকে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিদি বলেন, “আমার বয়েই গেছে, তোর কাঁচকলা করবি আমার।”
হেলিকপ্টার ও কেন্দ্রীয় এজেন্সি নিয়ে আক্রমণ
বিজেপির বিপুল নির্বাচনী প্রচার ও সম্পদের দাপট নিয়েও সরব হন মমতা। তিনি দাবি করেন, আজ আকাশে বিজেপির হয়ে ৫০টি হেলিকপ্টার উড়ছে, যেখানে তৃণমূল তিনটি জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। তাঁর কথায়, ১৯ জন মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং ইডি-সিবিআই-কে সঙ্গে নিয়ে বাংলা দখলে নেমেছে বিজেপি।
চাকরি ও শিল্প ইস্যুতে মোদীকে কড়া জবাব
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘আমোদি-প্রমোদি’ সম্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ করেন বেকারত্ব ও শিল্প ইস্যুতে। তিনি বলেন:
-
চাকরি: বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশে বেকারত্ব বেড়েছে ৪০ শতাংশ। উল্টোদিকে বাংলায় বেকারত্ব কমেছে ৪০ শতাংশ।
-
শিল্প: বিরোধীদের শিল্পহীনতার অভিযোগ উড়িয়ে তিনি দাবি করেন, হাওড়া থেকে বর্ধমান পর্যন্ত ন্যাশনাল হাইওয়ে ধরে গেলেই দেখা যাবে চারদিকে শুধুই ইন্ডাস্ট্রি।
নির্বাচনের প্রাক্কালে মমতার এই ‘ভোট স্লো’ করার অভিযোগ বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন বা বিজেপি নেতৃত্ব এই গুরুতর অভিযোগের কী জবাব দেয়।