রক্তাক্ত আসানসোল: আর্তনাদ শুনেও থামেনি হামলাকারীরা, প্রিয়জনদের চোখেই নিভে গেল কংগ্রেস কর্মীর প্রাণ!

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার রেশ কাটতে না কাটতেই আসানসোলে ঘটে গেল এক চরম মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনা। ভোট পরবর্তী হিংসার মেঘ কাটতে না কাটতেই এবার প্রাণ গেল এক কংগ্রেস সমর্থকের। অভিযোগ, শনিবার বিকেলে আসানসোলের এক ঘিঞ্জি এলাকায় নিজের স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের সামনেই একদল দুষ্কৃতী ওই ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সমর্থক হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। এদিন বিকেলে তিনি যখন সপরিবারে বাড়ির অদূরে দাঁড়িয়েছিলেন, তখনই একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে তাঁকে ঘিরে ফেলে। স্ত্রী ও ছেলের চিৎকারেও মন গলেনি হামলাকারীদের। বাঁশ ও রড দিয়ে তাঁদের চোখের সামনেই ওই ব্যক্তিকে নিগ্রহ করা হয়। আর্তনাদ শুনে গ্রামবাসীরা ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: এই ঘটনার পরপরই আসানসোল জুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সরাসরি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই এই ‘পরিকল্পিত খুন’। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘পারিবারিক বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’ বলে দাবি করেছে।

পুলিশের তৎপরতা: আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল বাহিনী ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানো রুখতে মোতায়েন করা হয়েছে আধাসামরিক বাহিনী। ঘটনার মূল অভিযুক্তদের সন্ধানে পুলিশ তল্লাশি শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পরিবারের দাবি: নিহতের স্ত্রী ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “ওরা কোনো কথা শোনেনি। ছোট বাচ্চাটার সামনেই ওকে মেরে ফেলল। আমরা এর বিচার চাই।”