যুদ্ধ কি তবে অবধারিত? টানেলে লুকিয়ে ইরানের নেতারা! বড় রহস্য ফাঁস করলেন ইজরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী!

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা এখন সপ্তমে। একদিকে আমেরিকা একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও, অন্যদিকে যুদ্ধের জন্য কোমর বেঁধে নেমেছে ইজরায়েল। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাঁদের সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর বড় ধরনের অভিযানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এখন শুধু অপেক্ষা হোয়াইট হাউসের ‘সবুজ সংকেত’-এর।
লক্ষ্য ‘খামেনেই বংশ’ নির্মূল: ইজরায়েলি হুঙ্কার
একটি নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ স্পষ্ট করে দেন, ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) আক্রমণের জন্য তৈরি। তিনি বলেন, “আমরা খামেনেই বংশকে চিরতরে নির্মূল করতে প্রস্তুত। লক্ষ্যবস্তুগুলো চিহ্নিত করা আছে, শুধু ওয়াশিংটনের অনুমোদনের অপেক্ষা।” কাৎজের দাবি, ইরানের আকাশসীমা এখন অরক্ষিত এবং দেশটির সমস্ত জাতীয় পরিকাঠামো ইজরায়েলি হামলার নাগালে রয়েছে।
‘টানেলে লুকিয়ে ইরানের নেতারা’
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন কাৎজ। তাঁর মতে, ইরানের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে প্রাণভয়ে টানেলে লুকিয়ে আছেন, যার ফলে তাঁদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ইরান বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়ানোর হুমকি দিয়ে ‘ব্ল্যাকমেল’ করার রাজনীতি করছে। ভবিষ্যতে ইজরায়েলি হামলা এমন জায়গায় হবে যা ইরানের ভিত নাড়িয়ে দেবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ট্রাম্পের বড় ঘোষণা
ইজরায়েল যুদ্ধের জন্য মরিয়া হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুর নরম রেখেছেন পরমাণু অস্ত্রের প্রশ্নে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করব না। এই ধরনের মারণাস্ত্র কারোরই ব্যবহার করা উচিত নয়।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর আমেরিকার এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং ইরানকে একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে বাধ্য করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
আমরা এক ও অখণ্ড: ইরানের পাল্টা বার্তা
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে যখন ইরানের নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভেদের খবর ছড়িয়ে পড়ছে, তখন পাল্টা ‘ঐক্যের’ ডাক দিয়েছে তেহরান। ইরান সরকার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপমূলক মন্তব্য ভিত্তিহীন। সরকারের সবকটি শাখা এবং দেশের মানুষ এখন মার্কিন উস্কানির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ।
বিশ্লেষণ: পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিল কার্যত অচল। একদিকে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপ এবং অন্যদিকে ইজরায়েলের সামরিক প্রস্তুতির মাঝে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপই ঠিক করে দেবে—আগামী দিনে বিশ্ব আরও একটি বড় যুদ্ধ দেখতে চলেছে কি না।