হিজাব ইস্যুতে উত্তাল দেশ, ইরানে বিলুপ্ত করা হলো ‘মোরালিটি পুলিশ’ বিভাগ

অবশেষ ইরানে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে মোরালিটি পুলিশ। পুলিশি হেফাজতে তরুণী মাহশা আমিনির মৃত্যু ও হিজাব বিতর্কে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক আন্দোলনের জেরে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানের সরকার।
রোববার (৪ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
এক বিবৃতিতে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জাফর মনতাজরি বলেন, বিচারকার্যে মোরালিটি পুলিশের কোনো ভূমিকাই নেই। তাই মোরালিটি পুলিশকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এর একদিন আগেই তিনি বলেছিলেন, নারীদের হিজাব পরার আইনটি পরিবর্তন করা হবে কিনা তা বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পার্লামেন্ট এবং বিচারবিভাগ মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ইরানের মোরালিটি পুলিশের আনুষ্ঠানিক নাম গাস্ত-ই-এরশাদ বা পথপ্রদর্শন সংক্রান্ত পুলিশ। মূলত ইরানের কট্টোরপন্থী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের হাত ধরেই প্রতিষ্ঠা লাভ করে পুলিশ বিভাগের বিশেষ এই শাখা। যাদের কাজই হলো দেশজুড়ে শালীনতা ও হিজাবের সংস্কৃতিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। ২০০৬ সালে ইরানে মোরালিটি পুলিশ কার্যক্রম শুরু করে। তবে সময়ের সাথে সাথে এ নিয়ে বিতর্ক ও অসন্তোষও দানা বেধে উঠছিল।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঠিকমত হিজাব না পরার অভিযোগে নীতি পুলিশের হাতে গ্রপ্তার হন মাসা আমিনি (২২)। এর তিন দিন পর তিনি পুলিশি হেফাজতে মারা যান। বহু ইরানি ও পরিবারের দাবি আমিনির পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে। তবে দেশটির সরকার ও পুলিশ এই দাবি অস্বীকার করে। এর জেরে ইরানজুড়ে তুমুল বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।