ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আতঙ্ক? পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড ৯৩% ভোটদানের নেপথ্যে আসল রহস্য কী!

অমিতাভ ভট্টশালী ও প্রত্যুষ রায়, কলকাতা ও দিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটদানের হার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রথম দফায় গড় ভোট পড়েছে ৯২.৮৮ শতাংশ। ২০১১ সালের সেই ঐতিহাসিক পরিবর্তনকেও (৮৪.৭২%) ছাপিয়ে গেল এই দফার পরিসংখ্যান।
কোথায় উপচে পড়ল ব্যালট বক্স?
তথ্য বলছে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটদানের হার সবথেকে বেশি। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরের আসনগুলোতে কোথাও ৯৫% তো কোথাও ৯৭ শতাংশের গণ্ডি ছুঁয়েছে।
-
শীতলকুচি: ৯৭.৫৩%
-
ভগবানগোলা: ৯৬.৯৫%
-
চোপড়া: ৯৬.০২%
-
ডোমকল: ৯৬.৪৩% এমনকি মেদিনীপুর, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামের মতো এলাকাগুলোতেও ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ বুথমুখী হয়েছেন।
কেন এই ‘ভোট-বিস্ফোরণ’? আতঙ্ক না স্বতঃস্ফূর্ততা?
নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সমাজ-গবেষকদের মতে, এই রেকর্ড ভিড়ের পেছনে বড় কারণ হতে পারে এসআইআর (SIR) আতঙ্ক। ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লাখ মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। সাধারণ মানুষের মনে এক গভীর ভয় কাজ করছে— ‘এবার ভোট না দিলে হয়তো চিরতরে নাগরিকত্ব হারাবো’।
বিশেষজ্ঞের পর্যবেক্ষণ: “মানুষ এবার ভোটার স্লিপের ফটোকপি করে রাখছেন, যাতে ভবিষ্যতে প্রমাণ করা যায় যে ভোটার তালিকায় নাম ছিল এবং তাঁরা ভোট দিয়েছেন।” — আসিফ ফারুক, সাধারণ সম্পাদক, পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চ।
অঙ্কের হিসাবে কি কোনো কারসাজি?
ভারতের প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার এসওয়াই কুরেশি এই হারকে ‘হাইলি ইনফ্লেটেড’ বা কৃত্রিমভাবে ফোলা বলে মনে করছেন। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ যাওয়ায়, সংকুচিত তালিকার ভিত্তিতে শতাংশের হার এমনিতেই বেশি বেরোবে। তবে পরিযায়ী শ্রমিকদের রেকর্ড হারে রাজ্যে ফেরা প্রমাণ করে যে, মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার এক তীব্র তাড়না কাজ করেছে।
মুখোমুখি মোদী-মমতা: কার ঘরে কত ভোট?
এই রেকর্ড ভোট নিয়ে উভয় শিবিরই জয়ের দাবি জানাচ্ছে:
-
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: “মানুষ মনে করছেন এটা অধিকার রক্ষার লড়াই। ডিলিমিটেশন ও এনআরসি-র ভয়েই মানুষ প্রতিবাদী হয়ে ভোট দিয়েছেন।”
-
অমিত শাহ: “ভুয়া ভোটার ও অনুপ্রবেশকারীদের নাম কেটে যাওয়ায় মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে বেরিয়েছেন। এই ভোট তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে।”