যাদবপুরের পড়ুয়াদের অপমানের বদলা! হাওড়ার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর দিকে আঙুল তুলে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আবহে এবার লড়াই পৌঁছে গেল সরাসরি ব্যক্তিগত এবং প্রতিষ্ঠানিক সম্মানের স্তরে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) হাওড়ার নির্বাচনী সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব এবং ছাত্রছাত্রীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর করা এক মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন কার্যত অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন।
মমতার ভাষণের মূল ৩টি তোপ:
১. অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নৈরাজ্য’ চলছে— মোদীর এই অভিযোগের পাল্টা দিয়ে মমতা বলেন:
“তুমি বলছ ওখানে নৈরাজ্য চলছে? আমি জিজ্ঞেস করি, তুমি এক পয়সাও দিয়েছ যাদবপুরকে? দিল্লির সরকার তো টাকা বন্ধ করে বসে আছে। আর আজ বড় বড় কথা বলতে এসেছ?”
২. পড়ুয়াদের অপমানের প্রতিবাদ: প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে যাদবপুরের পড়ুয়াদের একাংশকে যেভাবে বিঁধেছিলেন, তার প্রতিবাদে মমতা বলেন যে, যাদবপুর হলো বাংলার মেধার খনি। এখানকার ছাত্রছাত্রীরা বিশ্বজয় করে। তাঁদের এভাবে অপমান করা মানে বাংলার শিক্ষাব্যবস্থাকে গালমন্দ করা।
৩. খোলা চিঠি ও চ্যালেঞ্জ: হাওড়ার সভা থেকেই মমতা জানান, তিনি ইতিমধ্যেই এই অপমানের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীকে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিজেপি বাংলার আইকনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে দখল করার চেষ্টা করছে এবং ছাত্র আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করছে।
সুপ্ৰিয় ঘোষের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রেক্ষাপট:
শুক্রবার সকালে এক জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘নৈরাজ্য’ এবং ‘দেশবিরোধী কাজ’-এর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বিকেলেই হাওড়ার সভা থেকে তার কড়া জবাব দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি মোদীকে লক্ষ্য করে বলেন, “একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে আপনি যে ভাষায় ছাত্রছাত্রীদের আক্রমণ করছেন, তা শোভা পায় না।”
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা
প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই যেভাবে ছাত্র এবং মেধা ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কলকাতার বুদ্ধিজীবী এবং তরুণ ভোটারদের সেন্টিমেন্ট নিজেদের দিকে টানতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।