বিজেপিকে রুখতে এবার এককাট্টা ‘ইন্ডিয়া’? ভবানীপুরের শেষবেলার প্রচারে কেজরীওয়াল-মমতা ম্যাজিক!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সবথেকে হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। আর নির্বাচনের শেষ লগ্নে সেই ভবানীপুরেই রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন আম আদমি পার্টির (AAP) সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরীওয়াল। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে খোদ তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রে প্রচারে আসার কথা রয়েছে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর।
তৈরি হচ্ছে মেগা প্ল্যান: সূত্রের খবর, ভবানীপুরের হাই-স্টেক লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করতে কেজরীওয়ালের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো সূচি প্রকাশ করা না হলেও, দলীয় স্তরে প্রস্তুতি তুঙ্গে। মনে করা হচ্ছে:
-
কেজরীওয়াল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যৌথভাবে একটি বিশাল রোড-শো করতে পারেন।
-
ভবানীপুরের সংখ্যালঘু এবং অবাঙালি ভোটারদের প্রভাবিত করতে বেশ কিছু পথসভা বা জনসভা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
-
‘ইন্ডিয়া’ জোটের সংহতি প্রদর্শনে এটিই হতে পারে নির্বাচনের অন্যতম বড় মাইলফলক।
কেন এই সফর গুরুত্বপূর্ণ? ভবানীপুর এমন একটি কেন্দ্র যেখানে বাংলাভাষী মানুষের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে পাঞ্জাবি এবং হিন্দিভাষী মানুষ বসবাস করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অরবিন্দ কেজরীওয়ালের উপস্থিতি এই অবাঙালি ভোটব্যাঙ্ককে তৃণমূলের পক্ষে টানতে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে বিজেপির ‘জাতীয়তাবাদী’ প্রচারের পাল্টা হিসেবে কেজরীওয়ালের ‘দিল্লি মডেল’ ও মমতার ‘বাংলা মডেল’ একযোগে পেশ করার কৌশল নিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
বিজেপির পাল্টা প্রতিক্রিয়া: এদিকে কেজরীওয়ালের সফর নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবির। তাদের দাবি, “পরাজয় নিশ্চিত জেনেই বাইরের নেতা নিয়ে এসে শেষ রক্ষা করতে চাইছেন মমতা।” তবে রাজনীতির অন্দরে আলোচনা একটাই—শেষবেলায় কেজরীওয়াল ম্যাজিকে ভবানীপুরের সমীকরণ কি আরও সহজ হয়ে যাবে তৃণমূলের জন্য?
উপসংহার: ২৯ এপ্রিল ভবানীপুরে ভোট। তার ঠিক আগেই অরবিন্দ কেজরীওয়ালের এই ঝোড়ো প্রচার কলকাতার রাজনীতির রং বদলে দিতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।