ভোটের আগে বাইক বন্ধ কেন? হাইকোর্টের কড়া প্রশ্নের মুখে কমিশন, বিস্ফোরক যুক্তি ইসিআই-এর!

নির্বাচনের প্রাক্কালে ‘সাইলেন্ট পিরিয়ড’ শুরু হতেই রাজ্যে বাইক চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে কমিশনের এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও-এর কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হলো ভারতের নির্বাচন কমিশনকে (ECI)।
“ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন আপনারা” ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকেই কেন বাইক চলাচলে এই নিষেধাজ্ঞা? এই প্রশ্ন তুলে বিচারপতি মন্তব্য করেন, “নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আছে বলে যা খুশি করা যায় না। আপনারা কি নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন?” আইনের কোন ধারায় এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, তা নিয়েও কমিশনের কাছে জবাবদিহি চায় আদালত।
কমিশনের সাফাই: নেপথ্যে ‘বাইক-সন্ত্রাস’? পাল্টা সওয়ালে কমিশনের আইনজীবী হাইকোর্টে এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি জানান:
-
কমিশনের কাছে অনবরত অভিযোগ আসছে যে, বাইকে চড়ে এসে ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
-
বাইকে করে অপরাধ ঘটিয়ে গলিপথ দিয়ে পালানো কিংবা নাকা তল্লাশি এড়িয়ে যাওয়া অনেক সহজ।
-
কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাইকের পেছনে বসে থাকা ব্যক্তিরাই বেশি অপরাধমূলক কাজ করছে।
কমিশনের আইনজীবী আরও যোগ করেন, “রাজ্যে নির্বাচনের সময় হিংসার একটি ইতিহাস রয়েছে। সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
আইডি কার্ড বিতর্ক ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি শুনানি চলাকালীন বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ শ্রমিক বা দিনমজুররা যদি জরুরি কাজে বের হন, তবে তাঁরা আইডি কার্ড কোথায় পাবেন? আইডি কার্ড না দেখালে পুলিশ তাঁদের হয়রানি করবে না, তার নিশ্চয়তা কী? এর জবাবে কমিশন জানায়, অফিস যাত্রী বা জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে বিচারপতির পাল্টা প্রশ্ন ছিল, “যান নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধুমাত্র বাইককেই কেন টার্গেট করা হলো?”
রাজ্য সরকারের অবস্থান এই মামলায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও কমিশনের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। রাজ্যের আইনজীবীর দাবি, নির্বাচন কমিশন আইন তৈরি করার কোনো ক্ষমতা রাখে না। এই নির্দেশিকা জারির আইনি উৎস বা ভিত্তি দেখাতে কমিশন ব্যর্থ হয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়।
ভোটের মুখে কমিশনের এই ‘বাইক-ব্যান’ শেষ পর্যন্ত বহাল থাকে নাকি আদালত নতুন কোনো নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।