বুথের পর এবার মদের দোকানে ‘ভোট’! দুর্গাপুরে সুরাপ্রেমীদের মাইল লম্বা লাইন, কারণ জানলে হাসবেন না কি কাঁদবেন?

বৃহস্পতিবার ছিল গণতন্ত্রের উৎসব, বুথে বুথে ছিল ভোটারদের লম্বা লাইন। কিন্তু শুক্রবারের সূর্য উঠতেই বদলে গেল লাইনের ঠিকানা! বুথ নয়, এবার শিল্পশহর দুর্গাপুরের মদের দোকানগুলির সামনে দেখা গেল কাতারে কাতারে মানুষের ভিড়। চড়া রোদ মাথায় নিয়ে, হাতে ব্যাগ-থলি নিয়ে সুরাপ্রেমীদের এই ‘ধৈর্য’ দেখে পথচারীদেরও চক্ষু চড়কগাছ!

চারদিনের খরা কাটল অবশেষে: নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে গত ১৯ এপ্রিল থেকেই রাজ্যে মদের দোকান বন্ধ ছিল। একটানা চারদিন পর আজ, শুক্রবার সকালে দোকান খুলতেই যেন বাঁধ ভাঙল মানুষের। দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার থেকে শুরু করে বেনাচিতি, পানাগড় বা অন্ডাল—সব জায়গাতেই ছবিটা একই। যেন উৎসবের পরের দিনই আরেক উৎসব শুরু হয়েছে!

কেন এই তাড়াহুড়ো? সুরাপ্রেমীদের মনে কাজ করছে এক বড়সড় আতঙ্ক। কেন এই লম্বা লাইন?

  • ফের দোকান বন্ধের ভয়: আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট। নিয়মানুযায়ী তার কয়েকদিন আগে থেকেই ফের ‘ড্রাই ডে’ শুরু হতে পারে।

  • জমানোর হিড়িক: অনেকেই মনে করছেন শনি বা রবিবার থেকেই হয়তো আবার ঝাঁপ পড়ে যাবে দোকানের। তাই আগেভাগেই স্টক মজুত করতে ব্যাকুল সবাই।

কর্মীদের গলায় স্বস্তি ও আশঙ্কা: শিল্পাঞ্চলের একটি মদের দোকানের কর্মী উত্তম সাঁতরা বলেন,

“সকাল থেকেই অস্বাভাবিক ভিড়। আমাদের কাছে দোকান খোলার নির্দেশ এলেও জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে আবার বন্ধ করতে হতে পারে। সেই আশঙ্কাতেই হয়তো লোকে এত ভিড় করছে।”

প্রশাসনের নজরদারি: ভোটের ডিউটি সেরে পুলিশ যখন একটু জিরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে, তখনই মদের দোকানের এই ভিড় সামলানো তাদের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দোকানের লাইনে যাতে কোনওরকম অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তার জন্য টহল দিচ্ছে পুলিশ।

ভোটের লাইনে যে ধৈর্য দেখা গিয়েছিল, মদের দোকানেও সেই একই ডিসিপ্লিন দেখে অনেকেই বলছেন— “সুরাপ্রেমীদের ভালোবাসা সত্যিই অটুট!” আপাতত পকেট গড়ের মাঠ হলেও, ব্যাগ ভর্তি করতে মরিয়া দুর্গাপুরের সুরাপ্রেমীরা।