“আঙুলটাও দেখাতে হবে?” মুর্শিদাবাদে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের মজার আবদার মেটালেন অরিজিৎ সিং!

বৃহস্পতিবার ছিল বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট। আর এই দফার নির্বাচনে সবথেকে বড় চমক ছিল ভোটদানের ‘ঐতিহাসিক’ হার। ১৫২টি আসনে রেকর্ড ৯১.৯১ শতাংশ মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এই গণতান্ত্রিক উৎসবের মাঝেই মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে দেখা মিলল দেশের সবথেকে জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং-এর। গ্ল্যামার আর স্টারডমের চাকচিক্য সরিয়ে রেখে আবারও অরিজিৎ বুঝিয়ে দিলেন কেন তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে রাজ করেন।
গোপন ডেরা থেকে বুথে অরিজিৎ
বৃহস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল সকালে স্ত্রী কোয়েল রায়কে সঙ্গে নিয়ে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের একটি বুথে ভোট দিতে আসেন অরিজিৎ। পরনে অত্যন্ত সাদামাটা পোশাক, পায়ে চটি— ঠিক যেমনটা তাঁকে জিয়াগঞ্জের রাস্তায় হামেশাই দেখা যায়। বুথে উপস্থিত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন তিনি। গায়ককে হাতের নাগালে পেয়ে সাংবাদিক ও ভক্তদের ভিড় উপচে পড়লেও অরিজিৎ ছিলেন একেবারেই সাবলীল।
“লোকে ভাববে আমিই রাজনীতিতে নেমেছি!”
ভোট দিয়ে বেরোনোর পর সাংবাদিকরা তাঁর কাছে কোনো বিশেষ ‘বার্তা’ চাইলে অরিজিৎ তাঁর স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় বলেন, “এখন ভোট দিতে এসে কী বার্তা দেব? লোকে ভাববে আমি নিজেই রাজনীতিতে নেমে পড়েছি!” এখানেই শেষ নয়, কালি মাখা আঙুল নিয়ে ছবি তোলার অনুরোধ এলে হাসতে হাসতে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, “আমি তো ভোট দিয়েই ফেলেছি—এখন কালি লাগানো আঙুলটাও দেখাতে হবে?” তাঁর এই সহজ-সরল বাচনভঙ্গি এবং উপস্থিত বুদ্ধি দেখে মুগ্ধ সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও।
সামিল হলেন টিনসেল টাউন থেকে অরিজিতের বাবাও
অরিজিতের আগে এদিন সকালেই ওই একই বুথে ভোট দেন তাঁর বাবা সুরিন্দর সিং। তিনি জানান, ভোটদান অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে মিটেছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বাবা ও ছেলে—দুজনেই নাগরিক দায়িত্ব পালন করে গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হলেন।
কেরিয়ারে বিরতি কিন্তু গান থামছে না
চলতি বছরের জানুয়ারিতেই প্লেব্যাক থেকে বিরতি নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন অরিজিৎ। তবে ভক্তদের আশ্বস্ত করে তিনি জানিয়েছিলেন যে, মিউজিক চর্চা এবং স্বাধীনভাবে গান তিনি চালিয়ে যাবেন। সম্প্রতি তাঁর গাওয়া ‘রানা’ গানটি ইউটিউব ও মিউজিক প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
অরিজিৎ সিংয়ের এই অনাড়ম্বর জীবনযাপন আবারও প্রমাণ করল যে, হাজার হাজার কোটির মালিক বা বিশ্বখ্যাত গায়ক হয়েও জিয়াগঞ্জের সেই ছেলেটি আজও মাটির কাছাকাছিই রয়ে গিয়েছে।