সমুদ্রপথে এবার ‘টোল ট্যাক্স’? মালাক্কা প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে টাকা চাইবে ইন্দোনেশিয়া! চিন্তায় ভারত

সুয়েজ খাল বা পানামা খালের মতো এবার কি বিশ্বের ব্যস্ততম সমুদ্রপথ ‘মালাক্কা প্রণালী’ পার হতেও পকেট খসবে জাহাজ কোম্পানিগুলোর? ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী পূর্বায় যুধি সাদেভার একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র তোলপাড়। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এবার টোল বা কর আরোপের কথা ভাবছে জাকার্তা।

কেন এই কর আদায়ের পরিকল্পনা?
ইন্দোনেশিয়ার যুক্তি হলো, মালাক্কা প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত পথ হওয়া সত্ত্বেও এখান থেকে কোনো সরাসরি রাজস্ব পায় না উপকূলীয় দেশগুলো। বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের খরচ জোগাতে এই ‘টোল ট্যাক্স’ একটি বড় অস্ত্র হতে পারে বলে মনে করছে তারা।

সিঙ্গাপুরের তীব্র বিরোধিতা: শুরু সংঘাতের মেঘ
ইন্দোনেশিয়ার এই প্রস্তাবে সবথেকে বেশি চটেছে প্রতিবেশী দেশ সিঙ্গাপুর। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান সাফ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এই জলপথ সর্বদা উন্মুক্ত ও বাধামুক্ত থাকা উচিত। সিঙ্গাপুর কোনোভাবেই এই পথে টোল বা কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সমর্থন করবে না। যেহেতু এই জলপথের ওপর মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরেরও সমান অধিকার রয়েছে, তাই ইন্দোনেশিয়া একা এই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।

ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ: কেন আমরা বিপদে?
মালাক্কা প্রণালীতে কোনো কর বসলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের ওপর। কেন?

বাণিজ্যের লাইফলাইন: ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ এই পথ দিয়েই সম্পন্ন হয়।

পণ্য সরবরাহ: ভারতের প্রয়োজনীয় এলএনজি (গ্যাস), কয়লা, ইলেকট্রনিক্স এবং ওষুধের কাঁচামাল (এপিআই) এই পথেই আসে।

মূল্যবৃদ্ধি: টোল ট্যাক্স বসলে আমদানি খরচ একলাফে অনেকটা বেড়ে যাবে, যার ফলে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়বে। ওষুধের দাম থেকে মোবাইলের দাম—সবই হতে পারে আকাশছোঁয়া।

কৌশলগত অবস্থান ও ভবিষ্যৎ
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশপথের খুব কাছে হওয়ায় ভারত এখানে একটি কৌশলগত সুবিধা পায়। বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য এই এলাকার ওপর দিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিকল্পনা আপাতত প্রাথমিক স্তরে থাকলেও, এটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বজুড়ে শিপিং কোম্পানিগুলো বিদ্রোহ করতে পারে।