“এক বুথেই ৯৯.৬২% ভোটদান”-কেন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ভোট দিতে ছুটছেন সংখ্যালঘুরা?

ভারতীয় নির্বাচনী ইতিহাসে এক বিরল ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল ২০২৬-এর বাংলার প্রথম দফার নির্বাচন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটদানের হার দেখে কার্যত থমকে গিয়েছেন দুঁদে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। পশ্চিম মেদিনীপুরের গরবেতা বিধানসভা কেন্দ্রের উত্তরবিল-মাঝপাড়া গ্রামের ২৩৮ নম্বর বুথে যা ঘটল, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য!

পরিসংখ্যান যখন রেকর্ড গড়ে

গরবেতার ওই নির্দিষ্ট বুথে মোট ভোটার ৫৩৬ জন। এর মধ্যে ৫৩৩ জন সশরীরে বুথে গিয়ে ভোট দিয়েছেন এবং একজন দিয়েছেন পোস্টাল ব্যালটে। মাত্র ২ জন অসুস্থতার কারণে ভোট দিতে পারেননি। অর্থাৎ, ভোটদানের হার ৯৯.৬২ শতাংশ! শুধু গরবেতা নয়, মুর্শিদাবাদের ডোমকল, রঘুনাথগঞ্জ বা ভগবানগোলার মতো এলাকাতেও ভোটের হার ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশের ঘরে ঘোরাফেরা করছে।

কেন এই ‘ভোট-বিস্ফোরণ’?

নির্বাচন কমিশন এই সাফল্যের কৃতিত্ব কড়া নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে দিলেও, এর গভীরে রয়েছে অন্য এক সমীকরণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা যাচাই বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া এক অজানা আতঙ্কই তাঁদের বুথমুখী করেছে।

  • পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রত্যাবর্তন: অনেকের মনে ভয় জন্মেছে যে, ভোট না দিলে ভবিষ্যতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তে পারে। আর সেই কারণেই কয়েক হাজার টাকা খরচ করে ভিন রাজ্য থেকে গ্রামে ফিরেছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা।

  • ভবিষ্যতের প্রমাণ: বুথের বাইরে কালির দাগ লাগানো আঙুল নিয়ে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। ভোটারদের অনেকেরই ধারণা, ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এই ছবিই তাঁদের প্রধান প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।

এক নজরে প্রথম দফার চিত্র

প্রথম দফার ১৫২টি আসনে গড়ে ৯২.৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা একক পর্যায়ের নিরিখে একটি নতুন রেকর্ড। মুসলিম এবং হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যেই ভোটদানের প্রবল উৎসাহ থাকলেও, সংখ্যালঘু প্রধান এলাকায় এই সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো।