বিভক্ত ইরান? ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবির পর তোলপাড় বিশ্ব, দাবার চালে পাল্টা চাল তেহরানের!

ইরানের ক্ষমতার অলিন্দে কি তবে ভাঙন ধরেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির পর থেকেই উত্তাল আন্তর্জাতিক রাজনীতি। ইরান কি সত্যিই ‘কট্টরপন্থী’ ও ‘নরমপন্থী’ শিবিরে ভাগ হয়ে গিয়েছে? ওয়াশিংটনের এই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে এবার রণহুঙ্কার দিল তেহরান। গোটা বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিতে একযোগে ময়দানে নেমেছেন ইরানের শীর্ষ সরকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে সামরিক কর্তারা।
ট্রাম্পের দাবি ও ‘যুদ্ধবিরতি’র মোড়ক
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেন, ইরান সরকার মারাত্মকভাবে অভ্যন্তরীণ বিভেদে জর্জরিত। তিনি জানান, পাকিস্তান সরকারের অনুরোধে ইরানের ওপর আক্রমণ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, “তেহরান আগে নিজেদের বিভেদ মেটাক এবং আলোচনার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব নিয়ে আসুক।”
ইরানের পাল্টা ‘ডিজিটাল স্ট্রাইক’
ট্রাম্পের উস্কানিমূলক বার্তার জবাবে ইরান সরকার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ ঐক্যের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ থেকে শুরু করে কৃষিমন্ত্রী গোলামরেজা নুরি—সকলেই একই বার্তা শেয়ার করে জানিয়েছেন, ইরানে কোনো বিভেদ নেই।
পার্লামেন্ট স্পিকার এমবি গালিবাফ কড়া ভাষায় বলেন:
“ইরানে কোনো র্যাডিকাল বা মডারেট নেই; আমরা সবাই এক আল্লাহ, এক নেতা এবং এক জাতির অনুসারী। এই লৌহ কঠিন ঐক্যই আক্রমণকারীকে অনুশোচনা করতে বাধ্য করবে।”
রহস্যের কেন্দ্রবিন্দুতে মোজতবা খামেনি
বিবাদের দাবির মাঝে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা আলি খামেনি-র অবস্থান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে বিমান হামলায় প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির মৃত্যুর পর, ৮ মার্চ দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তাঁর দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে একবারও জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তাঁর কেবলমাত্র দু-একটি লিখিত বার্তা প্রকাশ্যে এসেছে। সর্বোচ্চ নেতার এই ‘অদৃশ্য’ থাকাই কি তবে বিভেদের গুঞ্জনে ঘি ঢালছে?
নেপথ্যে আইআরজিসি (IRGC)-র ভূমিকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের আসল ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা IRGC। আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা কাঠামো অত্যন্ত জটিল এবং অস্বচ্ছ। আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসা ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর আইআরজিসি-র প্রভাব কতটা, তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ভোটের বাজারে যেমন বঙ্গে হিসেব কষা চলছে, তেমনই মধ্যপ্রাচ্যের এই স্নায়ুযুদ্ধ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার। একদিকে ট্রাম্পের সময়সীমা, আর অন্যদিকে ইরানের গোপন রণকৌশল—সব মিলিয়ে বিশ্ব রাজনীতির পারদ এখন তুঙ্গে।