“দুপুর ১টা বাজলেই খেলা শেষ!” ভোটের মুখেই দিদিকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম শাহর, বড় ইঙ্গিত জয়নগরে?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বিরোধী শিবিরে বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার চণ্ডীপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে এক চাঞ্চল্যকর ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ করলেন তিনি। শাহের দাবি— “৪ তারিখ দুপুর ১টার মধ্যেই দিদির বিদায় নিশ্চিত হবে।”
সময় বেঁধে চ্যালেঞ্জ অমিত শাহর
এদিন জনসভায় বিপুল জনসমাগমের সামনে আত্মবিশ্বাসের সুরে অমিত শাহ বলেন, “ভোটের প্রচার আজ শেষ হচ্ছে। আমি বাংলার মানুষের মুড দেখে এসেছি। চণ্ডীপুর থেকে আমি দিদিকে বলতে এসেছি— দিদি আপনার সময় শেষ। ৪ তারিখ দুপুর ১টা বাজলেই গোটা দেশ দেখবে বাংলার মানুষ আপনাকে ‘টাটা বাই বাই’ করে দিয়েছে।” অর্থাৎ, গণনার দিন দুপুরের মধ্যেই যে বিজেপি জয়ের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলবে, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি।
প্রতিবেদনের বিশেষ দিকসমূহ:
-
বিদায় ঘণ্টার সুর: শাহের এই ‘টাটা বাই বাই’ স্লোগানটি ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তৃণমূলের পরাজয় এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
-
দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশের অভিযোগ: বক্তৃতায় শাহ ফের একবার বালি পাচার, কয়লা পাচার এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মমতাকে আক্রমণ করে বলেন, “বাংলার জনতা এবার পিসি-ভাইপোর সরকারের থেকে মুক্তি চায়।”
-
বিজেপি কর্মীদের মনোবল: ভোটের ঠিক আগের দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন আক্রমণাত্মক মেজাজ নিচুতলার বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব
যদিও অমিত শাহর এই ভবিষ্যৎবাণীকে আমল দিতে নারাজ ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের পাল্টা দাবি, “দিল্লির নেতারা আগেও অনেক বড় বড় কথা বলেছিলেন, কিন্তু বাংলার মানুষ ইভিএম-এ তাঁদের প্রত্যাখান করেছিলেন। ৪ তারিখেই বোঝা যাবে কে টাটা বাই বাই বলছে।”
২০২৬-এর এই মহাযুদ্ধে শাহের এই ‘টাইমলাইন’ কতটা নির্ভুল হয়, নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের একবার ‘হ্যাটট্রিক’ করে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করেন— তার উত্তর মিলবে ওই ৪ তারিখেই।