নবান্ন দখলের মহাযুদ্ধ! কাল প্রথম দফার পরীক্ষায় বিজেপি, শুভেন্দু-নিশীথদের হাত ধরে কি ফুটবে পদ্ম?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন কি বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটাবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হ্যাটট্রিক সরকারকে হঠাতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। আগামীকাল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। উত্তরবঙ্গের হিমালয় থেকে জঙ্গলমহলের রুক্ষ মাটি— কাল সকাল থেকেই ১৫২টি কেন্দ্রে শুরু হবে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় লড়াই।
উত্তরবঙ্গের দুর্গ রক্ষা কি সম্ভব?
বিজেপির কাছে প্রথম দফার তুরুপের তাস হলো উত্তরবঙ্গ। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার থেকে শুরু করে মালদহ পর্যন্ত গেরুয়া শিবিরের আধিপত্য গত লোকসভাতেই স্পষ্ট ছিল।
কোচবিহার: মাথাভাঙা আসনে হেভিওয়েট নিশীথ প্রামাণিক বিজেপির জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত।
শিলিগুড়ি ও ডাবগ্রাম: শঙ্কর ঘোষ এবং শিখা চট্টোপাধ্যায়ের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী দিল্লি।
জঙ্গলমহল ও মেদিনীপুরের রণক্ষেত্র
দক্ষিণবঙ্গে বিজেপির মূল শক্তি জঙ্গলমহল। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক কি এবারও পদ্মেই আস্থা রাখবে? নজর থাকছে চন্দনা বাউড়ি ও নীলাদ্রি শেখর দানার ওপর। তবে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে নন্দীগ্রামে, যেখানে সরাসরি লড়ছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে খড়গপুরে দিলীপ ঘোষ এবং আসানসোলে অগ্নিমিত্রা পলের লড়াই বিজেপির জন্য অত্যন্ত মর্যাদার।
সমীক্ষার ইঙ্গিত: কত আসন পাবে বিজেপি?
ভোটের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপ বা এগজিট পোলের আভাসে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে:
IANS-Matrize: বিজেপি পেতে পারে ১০০ থেকে ১১৫টি আসন।
CNN-News18: বিজেপিকে ৯৮ থেকে ১০৮টি আসনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি যদি সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, তবে নবান্ন দখলের পথ অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
বিজেপির মূল অস্ত্র: দুর্নীতি ও নারী সুরক্ষা
এবার বিজেপির তুরুপের তাস কেবল হিন্দুত্ব বা সিএএ (CAA) নয়, বরং শাসক দলের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং আরজি কর কাণ্ডের মতো জ্বলন্ত ইস্যুগুলো। নারী নিরাপত্তা এবং মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে হাতিয়ার করেই গ্রাম বাংলার মানুষের মন জিততে চাইছে মোদী-শাহের দল।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও কমিশনের কড়াকড়ি
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং বাইক চলাচলে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হলে তারা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবে।
এখন দেখার, আগামীকালের ইভিএম-এ পদ্ম কতটা জোরালো ছাপ ফেলতে পারে। বাংলার মসনদ কি মমতারই থাকবে নাকি নতুন ভোরের ইঙ্গিত দেবে ২০২৬?