‘প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলার লোকসান’,-হরমুজ় নিয়ে বড় দাবি ট্রাম্পের,নতি স্বীকার করবে কি ইরান?

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে এবার বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজার নিয়ে বড় চাল চাললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমজ় প্রণালী’ (Strait of Hormuz) ইরান খুলে দিতে চাইছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে পুরোটাই নাকি হচ্ছে পর্দার আড়ালে, কেবল ‘মুখরক্ষার’ তাগিদে প্রকাশ্যে অনড় মনোভাব দেখাচ্ছে তেহরান—এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি ট্রাম্পের।
কেন নতিস্বীকার করতে পারে ইরান? ট্রাম্পের দাবি, হরমজ় প্রণালী বন্ধ থাকায় সবথেকে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে খোদ ইরান। ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার লোকসান হচ্ছে ওদের। এই বিশাল আর্থিক ধাক্কা ইরান আর সামলাতে পারছে না। তাই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ওরা দ্রুত হরমজ় খুলে দিতে চায়।”
শর্তহীন সমঝোতা নয়! ইরান নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও ট্রাম্প কিন্তু এখনই নরম হতে নারাজ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেবল প্রণালী খুলে দিলেই হবে না, আমেরিকার শর্ত মেনে স্থায়ী চুক্তিতে আসতে হবে। অন্যথায় আরও ‘কঠিন পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি।
সমুদ্রপথে হাহাকার: বিপদে ২০ হাজার নাবিক রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হরমজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত স্তব্ধ। যেখানে প্রতিদিন ১৪০টি জাহাজ যাতায়াত করত, এখন তা হাতেগোনা কয়েকটিতে ঠেকেছে। ওমান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলি নাবিকদের জীবন নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি ও শান্তির আশা মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের নেতারা যতক্ষণ না ঐকমত্যে পৌঁছে কোনো প্রস্তাব দিচ্ছেন, ততক্ষণ আমেরিকা হামলা করবে না। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয় এই হরমজ় প্রণালী দিয়ে। ফলে এই জট কাটলে কেবল যুদ্ধের উত্তেজনা কমবে না, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।