বিশ্বের সবচেয়ে উত্তপ্ত ২০ শহরের মধ্যে ১৯টিই ভারতে! তালিকায় বাংলার ৮ জেলা

বৈশাখের শুরুতেই কার্যত ‘অগ্নিগর্ভ’ পরিস্থিতি গোটা দেশে। আকাশ থেকে যেন আক্ষরিক অর্থেই আগুন ঝরছে। মঙ্গলবার দুপুরের পরিসংখ্যান বলছে এক ভয়াবহ বিপদের কথা। AQI.in-এর ২১ এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবথেকে উত্তপ্ত ২০টি জায়গার মধ্যে ১৯টিই এখন ভারতের মানচিত্রে! বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের মূল ভরকেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের দেশ।

তপ্ত শহরের তালিকায় বাংলার দাপট: বিশ্বের সবচেয়ে গরম শহরগুলোর তালিকায় যুগ্মভাবে শীর্ষে রয়েছে বিহারের ভাগলপুর, ওড়িশার তালচের এবং পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল। এই তিন জায়গাতেই পারদ ছুঁয়েছে রেকর্ড ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে শুধু আসানসোল নয়, বিশ্বের সেরা ২০টি তপ্ত স্থানের তালিকায় বাংলার মোট ৮টি এলাকা রয়েছে। তালিকায় নাম আছে— বাঁকুড়া, রায়গঞ্জ, বীরভূম, দুর্গাপুর, কুলটি, দলরবন্দ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের। ভারতের বাইরে এই তালিকায় একমাত্র স্থান পেয়েছে নেপালের লুম্বিনি।

কেন এই ভয়ংকর দহন? আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি কোনও সাধারণ গরম নয়। এর পিছনে রয়েছে একাধিক গভীর কারণ:

  • তুষারহীন হিমালয়: হিমালয় অঞ্চলে এবার বরফ কম পড়ায় সূর্যের আলো প্রতিফলিত না হয়ে সরাসরি স্থলভাগকে উত্তপ্ত করছে।

  • এল নিনোর প্রভাব: সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা বৃদ্ধি বায়ুমণ্ডলে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

  • শুষ্ক হাওয়া: উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা গরম ও শুকনো হাওয়া মেঘ জমতে দিচ্ছে না, ফলে বৃষ্টির নামগন্ধও নেই।

আগামী কয়েকদিন আরও ভয়াবহ: আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এখনই রেহাই পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং ২২ থেকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে পরিস্থিতি আরও বিগড়াতে পারে। অনেক জায়গায় তাপমাত্রা ৪৩ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। অর্থাৎ, আপাতত ‘হিটওয়েভ’ বা তীব্র তাপপ্রবাহের হাত থেকে বাঁচার কোনও রাস্তা নেই।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা: এই প্রবল দাবদাহ আসলে জলবায়ু পরিবর্তনের এক চরম অশনি সংকেত। প্রাক-বর্ষার স্বস্তির বৃষ্টির বদলে দেশবাসীকে এখন এক দীর্ঘ অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত জরুরি কাজ ছাড়া রোদে না বেরোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।